spot_img

২০৩০ সালেই মিশরের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন সিসি

অবশ্যই পরুন

‘মিসরের সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না’—মিসরীয় সামরিক একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় এ কথা বলেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন, ২০৩০ সালেই তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হবে। ক্ষমতা থেকে তার বিদায়ের বিষয়টি এখন ‘চূড়ান্ত এবং এ নিয়ে আর আলোচনা হবে না’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার মিসরীয় সামরিক একাডেমির এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭১ বছর বয়সী সিসি বলেন, ‘মিসরের সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।’ বর্তমানে তিনি ছয় বছর মেয়াদি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।
সিসি বলেন, ‘২০৩০ সাল আমার প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সমাপ্তি চিহ্নিত করবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ চূড়ান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিসরীয় রাষ্ট্রকে এমন পর্যায়ে না পৌঁছে দিয়ে আমি চলে যাব না, যখন দেশটি নিজের জনগণের দ্বারা পরিপূর্ণ হবে এবং সেই জনগণ দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম হবে।’

প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, সামরিক একাডেমি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করছে।
২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসেন সিসি

২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়ে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় বসেন সিসি ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, মিসরের কারাগারগুলোতে ৬০ হাজারেরও বেশি বিবেকের বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি নারী রয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিসহ অনেক বন্দি এবং বিরোধী দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা চিকিৎসার অবহেলা ও কারাগারের অমানবিক পরিবেশের কারণে মারা গেছেন। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই সিসির এই মন্তব্য সামনে এল।

গত সপ্তাহে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে সৌদি আরবের প্রতি তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা মিসরের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি আমরা।’
মিসর তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিতেও জড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে মিসর-সুদান সীমান্তে একটি স্বর্ণখনিতে মিসরের বিমান হামলায় ৭২ জন বেসামরিক শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুদানে চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে মিসর সুদানের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে।

ইথিওপিয়ার সঙ্গেও বিরোধ

সিসির সরকারের সঙ্গে ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। লোহিত সাগর অঞ্চলে ইথিওপিয়াকে সম্ভাব্য নৌ-প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে মিসর। এ ছাড়া গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (জিইআরডি) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

সম্প্রতি মিসর সুদান, সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করে। ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে সংঘাত তীব্র হলে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়। সূত্র: মিডলইস্ট আই

সর্বশেষ সংবাদ

দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: আইজিপি

দেশজুড়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ