‘মিসরের সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না’—মিসরীয় সামরিক একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় এ কথা বলেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন, ২০৩০ সালেই তার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হবে। ক্ষমতা থেকে তার বিদায়ের বিষয়টি এখন ‘চূড়ান্ত এবং এ নিয়ে আর আলোচনা হবে না’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘মিসরীয় রাষ্ট্রকে এমন পর্যায়ে না পৌঁছে দিয়ে আমি চলে যাব না, যখন দেশটি নিজের জনগণের দ্বারা পরিপূর্ণ হবে এবং সেই জনগণ দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম হবে।’
২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়ে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় বসেন সিসি ।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, মিসরের কারাগারগুলোতে ৬০ হাজারেরও বেশি বিবেকের বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি নারী রয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসিসহ অনেক বন্দি এবং বিরোধী দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা চিকিৎসার অবহেলা ও কারাগারের অমানবিক পরিবেশের কারণে মারা গেছেন। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেই সিসির এই মন্তব্য সামনে এল।
সুদানে চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) বিরুদ্ধে মিসর সুদানের সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে।
ইথিওপিয়ার সঙ্গেও বিরোধ
সিসির সরকারের সঙ্গে ইথিওপিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। লোহিত সাগর অঞ্চলে ইথিওপিয়াকে সম্ভাব্য নৌ-প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে মিসর। এ ছাড়া গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (জিইআরডি) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

