spot_img

মহাকাশে মিলল প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান

অবশ্যই পরুন

সাদা ক্ষুদ্র নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে মানুষের চোখে সবুজ দেখায়, এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

সাধারণত নক্ষত্রের রং তার তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। তাই বেশির ভাগ নক্ষত্রকে কমলা, সাদা বা নীল দেখায়। তবে সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবন শেষ হলে যে ঘন অবশিষ্টাংশ তৈরি হয়, তাকে শ্বেত বামন বলে। এসব নক্ষত্রে বিভিন্ন ধরনের রং দেখা যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গবেষণার প্রধান লেখক ও যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বেশির ভাগ শ্বেত বামন নক্ষত্রের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এসব নক্ষত্রের বাইরের স্তরে অস্বাভাবিক কিছু প্রক্রিয়ার কারণে তাদের আলো ও রঙে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

শ্বেত বামন নক্ষত্রের রঙে এই পরিবর্তনের কারণ হলো এর বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়াম ও অন্যান্য মৌলের পারস্পরিক ক্রিয়া। নক্ষত্রভেদে এসব মৌলের পরিমাণ আলাদা হয়। নক্ষত্রটি তার জীবদ্দশায় কোন কোন বস্তুর সংস্পর্শে এসেছে, তার ওপরও এই পার্থক্য নির্ভর করতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডস জানান, লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো মৌল, যা সাধারণত পাথর ও শিলায় পাওয়া যায়, কখনো কখনো শ্বেত বামন নক্ষত্রের পৃষ্ঠেও দেখা যায়। এটি নক্ষত্রটির আশপাশে আগে কোনো গ্রহব্যবস্থা থাকার ইঙ্গিত হতে পারে।

আবার কোনো গ্রহাণুর মতো বস্তু নক্ষত্রটির খুব কাছে চলে এসেও এসব মৌল সেখানে জমা হতে পারে।
হল্যান্ডসের মতে, গ্রহাণুর মতো কোনো পাথুরে বস্তু শ্বেত বামন নক্ষত্রের খুব কাছে চলে এলে নক্ষত্রটির মহাকর্ষীয় টানে তা ভেঙে ধুলা ও ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়। পরে এসব ধ্বংসাবশেষ নক্ষত্রটির ওপর পড়ে এবং এর বাইরের স্তরের সঙ্গে মিশে যায়।

এসব পদার্থ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, পাথুরে বস্তুগুলো কী কী উপাদানে তৈরি ছিল। এভাবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের সাহায্যে দূরবর্তী গ্রহের গঠন ও রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

হল্যান্ডস বলেন, শ্বেত বামন নক্ষত্রকে একধরনের প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করে গ্রহের উপাদান বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার বলেন, শ্বেত বামন নক্ষত্রের মহাকর্ষে গ্রহ ভেঙে গেলে তার ভেতরে থাকা বিভিন্ন উপাদানের অনুপাত বিশ্লেষণ করা যায়। এর মাধ্যমে গ্রহটি কিভাবে তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া সম্ভব।

তিনি বিষয়টিকে অপরাধের ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা যেমন ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন, তেমনি শ্বেত বামন নক্ষত্রের চারপাশে থাকা পদার্থ পরীক্ষা করে বহু আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের গঠন ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন।

মানুষের সঙ্গে মহাকাশের যোগসূত্র

এই গবেষণায় মার্ক হল্যান্ডস পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

তিনি জানান, সবুজ রঙের নক্ষত্রটিতে প্রধানত ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়াম রয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি শ্বেত বামন নক্ষত্রের রং ছিল স্যামন মাছের মতো গোলাপি। নক্ষত্রটিতে কার্বনের পরিমাণ বেশি থাকায় এমন রং দেখা গেছে।

গবেষণায় অংশ না নেওয়া অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসার বলেন, সবুজ নক্ষত্রটির বৈশিষ্ট্য তাকে আরো জানতে আগ্রহী করে তুলেছে। বিশেষ করে, কেন নক্ষত্রটির ওপর এত বেশি পদার্থ জমা হচ্ছে, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, এ ধরনের অদ্ভুত নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে পৃথিবী থেকে শ্বেত বামন নক্ষত্রের প্রকৃত রং সরাসরি দেখা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা নক্ষত্র থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে এর রং নির্ণয় করেন। আলোর এই বিশ্লেষণকে বলা হয় বর্ণালী বিশ্লেষণ। এর মাধ্যমে নক্ষত্রে কী কী উপাদান রয়েছে এবং এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য কেমন, তা জানা যায়।

পেন স্টেট স্ক্র্যানটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাগনেস কিম বলেন, সবুজ নক্ষত্রটি নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল। তাই এই গবেষণা থেকে শ্বেত বামন নক্ষত্র সম্পর্কে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য না-ও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি এসব নক্ষত্রকে বোঝার একটি নতুন ও আকর্ষণীয় দিক তুলে ধরেছে।

অধ্যাপক বার্গাসারের মতে, নক্ষত্রের তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সেগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করার পদ্ধতি ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণায় সহায়তা করবে।

গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডস ভবিষ্যতে আরো শ্বেত বামন নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করতে চান। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে আরো দূরের নক্ষত্রও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গবেষণাটি আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস (আরএএসটিআই) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

সর্বশেষ সংবাদ

বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ও উদ্বেগের কথা জানালেন আইএমএফ প্রধান

বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে যেমন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে মূল্যস্ফীতি, ঋণের বোঝা, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা ঝুঁকি। এসব...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ