spot_img

হরমুজের কাছে এলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হবে: ইরান

অবশ্যই পরুন

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আলী ওজমায়ি। তাঁর হুঁশিয়ারি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলে সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

নিজের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ওজমায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করছে। তবে ওয়াশিংটনের এই বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি আসলে খোলা নাকি বন্ধ, তা বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে হবে উল্লেখ করে এই ইরানি কমান্ডার বলেন, তাতেই স্পষ্ট হবে জলপথটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে।

অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ওজমায়ি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ও তাদের সাতটি নৌবহর এখন জ্বালানি পরিবহনে ব্যস্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বিমানবাহী রণতরি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে।

তিনি দাবি করেন, রণতরিটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এবং কার্যত বিমানবন্দরের রানওয়ের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। ইরানের যুদ্ধবিমানের আওতায় পড়ার ঝুঁকি থাকায় সেটি প্রণালির কাছাকাছি আসার সাহস করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এসব দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ওজমায়ির দাবি, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর আইআরজিসি নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী ওমান সাগরের দায়িত্বে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অবরোধ আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং ওই অঞ্চলেও ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনীর প্রভাব রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে আইআরজিসির এই কমান্ডার বলেন, ইরানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বুদ্ধিদীপ্ত। এই পথ দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

ওজমায়ি জানান, যেসব জাহাজের যাত্রা শুরু বা গন্তব্য ইরানে, সেগুলোকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইরানের সমুদ্রপথ ব্যবহার করে চলাচলের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আইন লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব জাহাজ বাতি নিভিয়ে গোপনে অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

পশ্চিম এশিয়ায় তেল পরিবহনের ব্যয় প্রসঙ্গে ওজমায়ি বলেন, বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনের খরচ প্রায় ১৫০ ডলার। তাঁর মতে, এটি অত্যন্ত বেশি ব্যয়।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের এমন বক্তব্য আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও তেল পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে। তবে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা, রণতরির অবস্থান এবং জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানি কমান্ডারের বক্তব্যগুলোকে তাঁর দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। পার্সটুডে

সর্বশেষ সংবাদ

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা ও হুমকি রোধে সরকারের পদক্ষেপ চেয়ে রিট

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা ও হুমকি রোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ