কানাডায় শরণার্থী বা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে দেশটির অভিবাসন বিভাগ ‘ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা’ (আইআরসিসি) অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এতে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগে দেওয়া তথ্য পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে।
কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির শরণার্থী আবেদনপ্রক্রিয়া আধুনিক ও কার্যকর করতে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ আইনে পরিণত হয়। এর আওতায় শরণার্থী আবেদন যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইআরসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে তাঁদের ওপর, যাঁরা অনলাইন পোর্টালে আবেদন শুরু করেছেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা চূড়ান্তভাবে জমা দেননি।
২ নভেম্বর রাত পর্যন্ত পুরোনো পদ্ধতিতে আবেদন
যাঁরা আইআরসিসির অনলাইন পোর্টালে আবেদন শুরু করেছেন, তাঁদের ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সময়সীমার মধ্যে আবেদন জমা না দিলে ৩ নভেম্বর থেকে নতুন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং আগের তথ্যগুলো পর্যালোচনা করতে হবে।
তবে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছে আইআরসিসি। অর্থাৎ, পোর্টালে আবেদন শুরু করে জমা না দিলেও আগে দেওয়া তথ্য পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না; নতুন নিয়মে সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।
সীমান্তে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) কাছে আশ্রয়ের আবেদন করে যাঁদের অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা বিষয় রয়েছে। ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে পোর্টাল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আবেদন যুক্ত না করলে সিবিএসএ সংগ্রহ করা তথ্য সংরক্ষিত নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নিজের ও পরিবারের তথ্য আবার দিতে হবে।
আগে আবেদন জমা দিলে নতুন করে তথ্য দিতে হবে না
আইআরসিসি জানিয়েছে, ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইন পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়া হলে নতুন করে তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে না—যদি না কর্তৃপক্ষ তা চায়। এ ক্ষেত্রে আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।
নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো আবেদনপ্রক্রিয়াকে আরও গোছানো করা এবং অসম্পূর্ণ আবেদন নিয়ে বারবার তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন কমানো। এর মাধ্যমে শরণার্থী আবেদন যাচাই ও শুনানির জন্য প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কানাডায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন যাচাইয়ের পর যোগ্য আবেদনগুলো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার (আইআরবি) কাছে পাঠানো হয়। আইআরবি আবেদনকারীরা শরণার্থী সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

