বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে কেনার সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকেরা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কিনতে পারবেন। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা ছাড়া অন্য মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা থাকলে এসব কার্ড আন্তর্জাতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর জারি করা আগের নির্দেশনায় সংশোধন আনা হয়েছে।
সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকেরা বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত ছিল, বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির অর্থ বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় সেই শর্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এখন বিদেশি এয়ারলাইনস তাদের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তি করলেও আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে টিকিট কেনার এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশে পরিচালিত ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এ সুবিধার আওতায় কেনা টিকিটের মূল্য প্রযোজ্য ভ্রমণসীমার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত ভ্রমণসীমার হিসাবের বাইরে থেকেই এসব টিকিট কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কেনার পর সংশ্লিষ্ট লেনদেন যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে গ্রাহকের আন্তর্জাতিক কার্ডে টিকিট কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থ পুনরায় জমা বা রিফিল করতে পারবে ব্যাংক। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের সঙ্গে ব্যাংকের বিদ্যমান ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের আওতাধীন ব্যবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।
এ ধরনের লেনদেন নির্ধারিত রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করার জন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট কেনার লেনদেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হবে।
ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সংশোধিত নির্দেশনার ফলে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট বিক্রির অর্থ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশে স্থানীয় অ্যাকোয়ারিং ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা ব্যবস্থা করার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে অনলাইনে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াও সহজ হবে।

