ভারতের অভিযোগের জবাবে পাকিস্তান বলেছে, ভারতই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী —তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) সহায়তা করছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারতের এক প্রতিনিধি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক ও প্রচারক হিসেবে অভিহিত করার পর পাকিস্তান পাল্টা জবাব দেয়। জাতিসংঘে পাকিস্তান মিশনের কাউন্সেলর সাইমা সালিম বলেন, ‘ভারত প্রপাগাণ্ডাকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছে’।
ভারতের প্রসঙ্গে সাইমা বলেন, ভারতের কথিত ‘সন্ত্রাস রপ্তানি’ আঞ্চলিক পর্যায় ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ক্ষেত্রে তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগের উল্লেখ করেন।
কাশ্মীর প্রসঙ্গ
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাশ্মীরিদের পরিস্থিতি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথা বলেছিলেন। এর জবাবে ভারতীয় প্রতিনিধি আজাদ কাশ্মীরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি বলেন, ‘যে অধিকার প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাকে সেই অধিকারের সঙ্গে সমতুল্য করা যায় না, যা অস্বীকার করা হয়েছে।’
পানি ও সিন্ধু পানি চুক্তি
১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সাইমা বলেন, ভারত পাকিস্তানের জন্য জীবনধারাস্বরূপ পানিকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার’মতো নতুন নিম্নস্তরে নেমেছে। পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালের মে মাসের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতকে পাকিস্তানে ‘মারকা-এ-হক’ নামে উল্লেখ করে সাইমা বলেন, ভারতের ‘মিথ্যা বয়ান ও অপতথ্য’ পাকিস্তানের হাতে ভারতের কথিত “পরাজয়” আড়াল করতে পারবে না। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকার করেছে যে ভারত শুধু একটি সামরিক সংঘাতেই পরাজিত হয়নি, বরং তার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ
সাইমা ভারতের ক্ষমতাসীন আরএসএস-বিজেপি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শকে রাষ্ট্রীয় নীতি ও চর্চায় প্রতিষ্ঠিত করার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এর ফলে মুসলিম, খ্রিস্টান, দলিত ও শিখসহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বেড়েছে।
কাশ্মীর প্রশ্নে তিনি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিতর্কিত অঞ্চল, যার একটি বড় অংশ ভারত ‘জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে’ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এই পরিস্থিতি কাশ্মীরিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ও আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন প্রস্তাবের পরিপন্থী।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

