spot_img

আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনার মধ্যেই ভয়াবহ হামলা, নিহত ১২

অবশ্যই পরুন

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে চোরাচালানবিরোধী একটি তল্লাশি চৌকিতে বিস্ফোরকবাহী গাড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হামলায় নারী ও দুই বছরের এক শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জনেরও বেশি। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার ডেরা ইসমাইল খান (ডিআই খান) জেলার দারাজান্দা এলাকায় ডিআই খান-কোয়েটা সড়কের ‘আমান মেলা পুলিশ চেকপয়েন্টে’ এ হামলা হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জিও নিউজ জানিয়েছে, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি তল্লাশি চৌকিটিতে আঘাত করার পর শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।

হতাহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং দুজন কাস্টমস কর্মকর্তা রয়েছেন। বিস্ফোরণে পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

হামলার ধরন ও লক্ষ্যবস্তু নিয়ে নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, এটি সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের সম্ভাব্য যোগসাজশের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

পাকিস্তানে ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সশস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যরা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদ বারবার কাবুলের প্রতি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খাওয়ারিজদের’ কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সংকল্প দুর্বল করতে পারবে না।

নাকভি আরও বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া ‘সম্মুখসারিতে’ রয়েছে এবং এই যুদ্ধে দেশের মানুষকে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

ডিআই খানের এই হামলার মাত্র এক সপ্তাহ আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইন্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইন্সের একটি মসজিদে হামলায় ১৬ জন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন নিহত এবং ১০৩ জন আহত হন।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক জুলফিকার হামিদের তথ্যমতে, বিস্ফোরকবাহী একটি গাড়ি পুরনো পুলিশ লাইন্সের গেটে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে হামলাকারীদের গোলাগুলি শুরু হয়।

একপর্যায়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভবনের কাছে আরও একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় আহত ১০৩ জনের মধ্যে ৭৩ জন পুলিশ সদস্য এবং ৩০ জন সাধারণ নাগরিক ছিলেন।

বিস্ফোরণে মসজিদের বাইরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি দেয়াল ধসে পড়ে। হামলার পর পুলিশ, এলিট ফোর্স, সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী রাতভর অভিযান চালিয়ে পুরো কম্পাউন্ড নিরাপদ করার চেষ্টা করে।

সেন্ট্রাল পুলিশ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে শেষ পর্যন্ত আটজন হামলাকারী নিহত হয়। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ফজরের নামাজের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীও অভিযানে যোগ দেয় এবং কম্পাউন্ডের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শেষ দুই আত্মঘাতী হামলাকারীকে হত্যা করা হয়। জিও নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ

ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই: পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর আলোচনায় আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলোচনার পর বারবার হামলা-নিষেধাজ্ঞা আরোপের অভিযোগ তুলে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ