spot_img

স্বর্ণের দামে বড় পতন

অবশ্যই পরুন

বিশ্ববাজারে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যে স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সরকারি বন্ডের মুনাফা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ স্বর্ণ বিক্রি করে বন্ডে বিনিয়োগ করছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ২৭৪ ডলার। সপ্তাহের হিসাবে এরই মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদযুক্ত সম্পদ, বিশেষ করে সরকারি বন্ডের মুনাফা বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে। বিগত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে চার সপ্তাহেই স্বর্ণের বাজারে এমন টানা দরপতন দেখা গেল।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার চিন্তা এবং সরকারি বন্ড থেকে বেশি লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকার কারণেই স্বর্ণের চাহিদা কমছে। যেহেতু স্বর্ণ থেকে আলাদা করে কোনো সুদ বা লাভ পাওয়া যায় না, তাই ব্যাংক বা বন্ডের সুদের হার বেশি থাকলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়। বিগত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে চার সপ্তাহেই স্বর্ণের বাজারে এমন টানা দরপতন দেখা গেল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল। এর ফলে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়। আর এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহেই মার্কিন ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগামী অক্টোবর ও ডিসেম্বরে তা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে স্বর্ণের দাম যে সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছিল, তা থেকে হিসাব করলে দেখা যায় এ পর্যন্ত দাম প্রায় ১৯ শতাংশ পড়ে গেছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ থামানোর জন্য নিউ ইয়র্কে একটি সমঝোতার চেষ্টা চলছে। সেখানে ইরানকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে এবং জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। দরকষাকষির এই ইতিবাচক খবরের পর বাজারে জ্বালানি তেল না পাওয়ার ভয় কিছুটা দূর হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

কমেছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও

শুধু স্বর্ণ নয়, চলতি সপ্তাহে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। রুপা ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সুদযুক্ত সম্পদের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বর্তমানে চাপ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের সুদের হার নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত, মার্কিন বন্ডের মুনাফা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম

এদিকে দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া— ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

নায়কের স্ত্রী পছন্দ না করায় সিনেমা থেকে বাদ পড়েছিলেন তাপসী

সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। সিনেমার গল্প চূড়ান্ত, কথাবার্তা শেষে শুটিংয়ের জন্য নিজের শিডিউলও দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ