জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাবৃন্দ রয়েছেন।
গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। পররাষ্ট্রসচিব জানান, ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘের মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন তারেক রহমান।
এরপর অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ওই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবেলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন।
বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবেলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।
রোহিঙ্গা ও মাতৃ-নবজাতক স্বাস্থ্য : বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।
একাধিক রাষ্ট্র ও সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক : জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন তারেক রহমান। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব।
তিনি জানান, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকগুলো উল্লেখযোগ্য।
ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বোয়িং চুক্তি : নিউইয়র্ক সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সময় বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে—এমন আলোচনাও রয়েছে।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

