তবে কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত আদব-শিষ্টাচার, যেমন বিলাপ না করা, অশালীনতা এড়ানো এবং ফিতনার আশঙ্কা না থাকা—এসব বিষয়ও বিবেচ্য।
মূল কথা হলো, নারীদের জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষে কবর জিয়ারত করা জায়েজ। তবে নিয়মিত কবরস্থানে না যাওয়াই উত্তম। তবে কখনো গেলে নিম্নোক্ত শর্তাদির প্রতি খেয়াল রাখবে।
২. পূর্ণ পর্দার সাথে বের হবে।
৩. যাতায়াত নিরাপদ হতে হবে। কোনো প্রকারের গুনাহে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে যাবে না।
নারীদের জন্য কবর জিয়ারত করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হওয়ার বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) আছে। কেননা, নারীদের কবর জিয়ারত তাদের অতিরিক্ত অস্থিরতা, বিলাপ ও মাতমের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কারণ, তাদের মধ্যে দুর্বলতা ও অধিক শোকপ্রবণতা এবং ধৈর্যের স্বল্পতা আছে। তাছাড়া তাদের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তি কষ্ট পেতে পারে এবং তাদের কণ্ঠস্বর ও অবয়বের কারণে পুরুষদের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা আছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়, হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবর জিয়ারতকারী নারীদের ওপর লানত করেছেন। (তিরমিজি, হাদিস: ১০৫৬; ইবন মাজাহ, হাদিস : ১৫৭৬)
একবার মহানবী (সা.) এক নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তখন তিনি তাকে বললেন: ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো।’ (বুখারি, হাদিস : ১২৮৩)
অর্থাত্ প্রথম হাদিসে নারীদের কবর জিয়ারত সম্পর্কে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আর দ্বিতীয় হাদিসে দেখা যায়, নবী (রা.) কবরের পাশে থাকা ও কান্না করার কারণে ওই নারীকে কবর থেকে চলে যেতে বলেননি; বরং তাকে আল্লাহভীতি ও ধৈর্যের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য কিছু আলেম প্রথম হাদিসের নিষেধাজ্ঞাকে হারামের পরিবর্তে মাকরুহ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
অন্য দিকে নারীদের কবর জিয়ারতের বৈধতা বোঝা যায় কিছু হাদিস থেকে। যেমন : বুরাইদাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (রা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম; এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো।” (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৭)

