spot_img

ব্যায়াম করেও বাড়তে পারে রক্তে শর্করা, কেন এমন হয়?

অবশ্যই পরুন

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শরীরচর্চার বিকল্প নেই। ব্যায়ামের সময় পেশির শক্তির প্রয়োজন বাড়ে, আর সেই শক্তি জোগাতে শরীরে জমা গ্লুকোজ় খরচ হতে থাকে। ফলে সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা কমারই কথা। কিন্তু সব সময় কি হিসাবটা এত সরল?

উল্টোটাও হতে পারে।

বিশেষ করে ভারী ওজন নিয়ে ব্যায়াম বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর রক্তে গ্লুকোজ় মাপলে দেখা যেতে পারে, মাত্রা কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। বিষয়টি শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও এর পেছনে রয়েছে শরীরের স্বাভাবিক হরমোনগত প্রতিক্রিয়া।

গুরুগ্রামের পুষ্টিবিদ অর্চনা বত্রার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরচর্চার সময় পেশির শক্তির চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে কোষ দ্রুত গ্লুকোজ় ব্যবহার করতে শুরু করে। কিন্তু একই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে শরীরে অ্যাড্রিনালিন ও কর্টিসলের মতো হরমোনের ক্ষরণও বাড়তে পারে।

এই হরমোনগুলি লিভারকে সংকেত দেয় যে, শরীরের আরও শক্তি প্রয়োজন। তখন লিভার সঞ্চিত গ্লুকোজ় রক্তে ছেড়ে দিতে শুরু করে। ফলে পেশি যে পরিমাণ গ্লুকোজ় ব্যবহার করছে, তার তুলনায় লিভার যদি বেশি গ্লুকোজ় রক্তে পাঠায়, সাময়িক ভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

মুম্বইয়ের ডায়াবিটিস বিশেষজ্ঞ রাজীব কোভিলও বিষয়টির সঙ্গে একমত। তাঁর মতে, বিশেষ করে ওজন নিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম বা অত্যন্ত তীব্র ব্যায়াম কখনও কখনও শরীরের কাছে এক ধরনের ‘স্ট্রেস’ হিসেবে ধরা দিতে পারে। তখন স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।

ব্যায়ামের সময় পেশি গ্লুকোজ় খরচ করছে ঠিকই, কিন্তু একই সময়ে হরমোনের প্রভাবে লিভার দ্রুত রক্তে গ্লুকোজ় ছাড়তে থাকলে সাময়িক ভাবে সুগার বেড়ে যেতে পারে।

সাধারণত সুস্থ শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করে এই পরিস্থিতি সামলে নিতে পারে। কিন্তু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইনসুলিনের ঘাটতি থাকতে পারে, অথবা শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া নাও দিতে পারে। ফলে ব্যায়ামের পর রক্তে শর্করা বাড়ার এই সাময়িক প্রভাব তুলনামূলক ভাবে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

তবে এতে ব্যায়াম বন্ধ করে দেওয়ার কোনও কারণ নেই।

বরং ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটাহাঁটি, শরীরচর্চা বা অন্যান্য কায়িক পরিশ্রম নিয়ম মেনে করলে দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, শরীরের ওজন ঠিক রাখা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অর্থাৎ, কখনও ব্যায়ামের পর সুগার সাময়িক ভাবে বাড়লেও, নিয়মিত শরীরচর্চা ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণের শত্রু নয়—বরং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

তবে কারও ক্ষেত্রে ব্যায়ামের পর বারবার রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে, বিশেষ করে মাত্রা অনেকটা বাড়লে, নিজের মতো করে ব্যায়াম বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সর্বশেষ সংবাদ

ইয়ামালের জোড়া গোলে উড়ে গেল ভ্যালেন্সিয়া

এস্তাদিও মেস্তায়ায় রীতিমতো গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। শৈল্পিক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ভ্যালেন্সিয়াকে ৫–০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তুলেছে হান্সি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ