বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক শক্তি ও সক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন এনে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব। পুরুষদের ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন সক্ষমতার ঘাটতি একটি পরিচিত সমস্যা। অনেকেই এ সমস্যাকে স্থায়ী অক্ষমতা মনে করে মানসিক চাপে ভোগেন কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধ সেবন শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সঙ্গে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। কখনও কখনও এটি হৃদ্রোগ বা রক্তনালির সমস্যার প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই সমস্যাটিকে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ডা. হাওয়ার্ড ই. লেওয়াইনের মতে, অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে এ সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
রক্তনালির রোগ, স্নায়ুর সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিংবা প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া ধমনিতে চর্বি জমে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিষণ্ণতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও যৌন সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা রক্তসঞ্চালন ও সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস করা যেতে পারে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজনের মধ্যবয়সী পুরুষদের নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস, ফাস্টফুড ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে খাদ্যতালিকায় বেশি করে তাজা ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্য রাখা যেতে পারে।
এ ছাড়া ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। আর সুস্থ রক্তনালি যৌনাঙ্গে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। এর ফলে যৌনাঙ্গে প্রয়োজনীয় রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা এবং অস্বাভাবিকতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ওজন ও কোমরের মাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন শরীরের বিপাকীয় স্বাস্থ্য, হরমোনের ভারসাম্য ও রক্তনালির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
তাই সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।
কেগেল ব্যায়ামেও মিলতে পারে উপকার
পেলভিক ফ্লোর বা নিম্নাঙ্গের পেশি শক্তিশালী করতে কেগেল ব্যায়াম করা যায়। এ ব্যায়ামে নির্দিষ্ট পেশি সংকুচিত ও শিথিল করার অনুশীলন করা হয়।
কিছু গবেষণায় কেগেল ব্যায়ামের সঙ্গে পুরুষদের যৌন সক্ষমতার উন্নতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সঠিক পদ্ধতি জানতে প্রয়োজনে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে শুধু যৌন সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কখনও এটি ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ বা রক্তনালির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই বারবার এমন সমস্যা হলে লজ্জা বা সংকোচে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে নিবন্ধিত চিকিৎসক বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ বা অনিয়ন্ত্রিত পণ্য ব্যবহার না করা। কারণ এসব পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে এবং অন্য ওষুধের সঙ্গে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

