স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সহযোগিতা পেয়েছি। দায়িত্ব পালনের সময়ে সংবিধান অনুযায়ী তিনি কিছু সুবিধা পাবেন। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরের দিকে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে স্বৈরাচার সরকারের শেষ সময়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদ এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পুরো সময় তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করেই।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলা ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যরা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছেন। সেটা করতে পারেন। কিন্তু আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে নেই।
মো. সাহাবুদ্দিনের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধাই পাবেন। তার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সুরক্ষা ছয় মাস পর্যন্ত বহাল থাকবে। এছাড়াও পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। আইনানুগভাবে তিনি যে সব সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, তার সবই দেওয়া হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির টেলিফোনের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথা বলার জন্য কি সত্যিই লন্ডন যেতে হয়? এই ইন্টারনেটের যুগে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসেই যোগাযোগ করা সম্ভব। তাই লন্ডনে গিয়ে কথা বলতে হবে, এমন দাবি আমার কাছে একেবারেই অলীক মনে হয়।
রথযাত্রা ও উল্টো রথ, দুই উৎসবই যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছি। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।
দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তার বিষয়ে দুবাই সরকার যত কাগজপত্র চেয়েছে, সেগুলো সব পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যের সঙ্গে দেশের সেবা পালন করবেন, তাদের সরকার পুরস্কৃত করবে। তবে এর ব্যত্যয় ঘটলে তাদের জন্য তিরস্কার রয়েছে।

