নিজের শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ইয়ামাল গোল করার পর দুই হাত দিয়ে ‘৩০৪’ সংখ্যা তৈরি করে উদযাপন করেন। এটি রোকাফোন্দার ডাক (পোস্টাল) কোডের শেষ তিন অঙ্ক, যা তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠার এলাকার প্রতি তাঁর গভীর টানকে প্রকাশ করে।
জানাজানি হওয়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন লামিন ইয়ামাল।
তাছাড়া, বার্সেলোনা ও স্পেনের উদীয়মান ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামাল তাঁর নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক ফটোশুট পিছিয়ে দেন, যাতে তাঁর দাদি ফাতিমা সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন।
মাত্র ১৭ বছর বয়সী ইয়ামাল শুধু মাঠের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্যই নয়, তাঁর বিনয়ী আচরণের জন্যও সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি প্রায়ই বলেন, তাঁর বাবা-মা যখন তাঁর তিন বছর বয়সে আলাদা হয়ে যান, তখন তাঁর বাবা-পক্ষের দাদি ফাতিমাই তাঁকে বড় করে তুলেছেন এবং জীবনে মাটির মানুষ হয়ে থাকতে শিখিয়েছেন।
মঙ্গলবার বার্সেলোনা জানায়, ক্লাব সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা এবং ক্রীড়া পরিচালক ডেকো-র উপস্থিতিতে ইয়ামাল নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির ফলে তিনি ২০৩১ সাল পর্যন্ত ক্লাবে থাকবেন। তখনও তাঁর বয়স হবে মাত্র ২৪ বছর। চুক্তিতে ১ বিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৮৪০ মিলিয়ন পাউন্ড) বাইআউট ক্লজ রাখা হয়েছে।
তবে, আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনটি জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে, যখন ইয়ামালের বয়স ১৮ হবে। কারণ, মঙ্গলবার তাঁর দাদি ফাতিমা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ফাতিমা ১৯৯০ সালে মরক্কো থেকে তাঁর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে বার্সেলোনায় আসেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই। পরে ইয়ামালের মা শেইলা এবানা, যিনি ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বাসিন্দা এবং নাসরাউই আলাদা হয়ে গেলে ফাতিমাই ইয়ামালের লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
একসময় ইয়ামাল তাঁর দাদিকে একটি নতুন বাড়ি কিনে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফাতিমা তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, তিনি মাতারোর শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দাতেই থাকতে চান, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।
এ দুটি বিষয় প্রকাশ পাওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ী স্পেনের তারকা খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

