কুয়েতে অবস্থিত দুটি ‘মার্কিন সামরিক স্থাপনায়’ বড় পরিসরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। এই হামলায় অন্য স্থাপনায় আঘাতের পাশাপাশি কুয়েতের একটি বিমানঘাঁটির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি বলেছেন, যেকোনও আগ্রাসনের জবাবে ‘ধ্বংসাত্মক ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের ‘ধ্বংসাত্মক ড্রোন’ কুয়েতের ক্যাম্প আল আদিরিতে থাকা একটি গোলাবারুদ গুদাম এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারে আঘাত হেনেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যেকোনও আগ্রাসন বা বর্বরতার জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী চূড়ান্ত ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানাবে।’
বিবৃতিতে আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ এবং ‘অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক শত্রু’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ‘চড়া মূল্য’ দিতে বাধ্য করারও অঙ্গীকার করেন তিনি
আবদুল্লাহি বলেন, ‘সামরিক সংঘাতে একের পর এক পরাজয়ের পর শত্রুপক্ষ এখন জনগণ ও তাদের নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি করে স্বস্তি খুঁজছে।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের দক্ষিণ থেকে উত্তর, পূর্ব থেকে পশ্চিম— পুরো দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসা হলো দেশের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

