আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে আলজেরিয়া। তাদের দাবি, ম্যাচে মেসিদের সুবিধা দিয়েছেন রেফারি। ৩-০ গোলের পরাজয়ের পর দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ তাই ম্যাচের কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফিফার রেফারিং কমিশনের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রথমার্ধের একটি ঘটনা। আলজেরিয়ার দাবি, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি তাদের অধিনায়ক আইসা মান্দির পায়ের পেছনের অংশে স্টাডস তুলে আঘাত করেছিলেন, যা লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হতে পারত।
ঘটনার পর আলজেরিয়ান খেলোয়াড় ও সমর্থকরা মেসির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানালেও রেফারি কোনো কার্ড দেখাননি। পরে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন মেসি।
আলজেরিয়ার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধে মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার কনুই দিয়ে ইব্রাহিম মাজাকে আঘাত করলেও সেটিও রেফারির নজর এড়িয়ে যায়।
এ ঘটনায় শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, মেসির তারকা মর্যাদা কি সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেছিল?
বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুসও। তার দলের মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানে মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন আচরণ দেখা যাচ্ছে।
ব্রুস বলেন, “মেসির ঘটনায় যা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার খেলোয়াড়ের ঘটনার তুলনা করলে আমি একমত হতে পারি না। জোয়ানে শুধু প্রতিপক্ষকে টপকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অথচ সে লাল কার্ড দেখেছে এবং তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও পেয়েছে।”
তবে একই সঙ্গে মেসির প্রতি শ্রদ্ধাও প্রকাশ করেন তিনি, “আমি চাই না মেসি লাল কার্ড পাক। কারণ তার মতো মানের খেলোয়াড়দের মাঠে থাকা দরকার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তার ঘটনার সঙ্গে জোয়ানের ঘটনার পার্থক্য কোথায়?”
এদিকে বিতর্ক পেছনে ফেলে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘জে’-তে তাদের পরের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে আলজেরিয়া মুখোমুখি হবে জর্ডানের।

