spot_img

দৈত্যের পোশাকে যেন এক ‘বামন চোর’: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কটাক্ষ

অবশ্যই পরুন

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য অর্থনৈতিক লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে এক তীক্ষ্ণ সাহিত্যিক আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ভাষা ব্যবহার করে এমন এক পরাশক্তির অহংকার উন্মোচন করেছেন, যাকে ইরানের সম্পদ চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

সোমবার (৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি শেক্সপিয়রের নাটক ম্যাকবেথ থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ইরানি ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে।

বাঘায়ি লিখেছেন,  “এখন তার উপাধি যেন তার গায়ে ঢিলেঢালা হয়ে ঝুলছে—যেন এক দৈত্যের পোশাক কোনো বামন চোরের গায়ে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শেক্সপিয়রের এই অমর পঙ্‌ক্তির সঙ্গে একটি ভিডিওও যুক্ত করেন, যেখানে রিগ্যান ন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে বেসেন্টকে বলতে শোনা যায়, “আমরা তাদের প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো জব্দ করেছি। সরাসরি নিয়ে নিয়েছি। একেবারে ওয়ালেটগুলোই কেড়ে নিয়েছি।”

এই রূপকটি এসেছে এমন এক ক্ষমতাদখলকারী রাজার করুণ পতনের কাহিনি থেকে, যার চুরি করা মুকুট ও পোশাক আর তার সঙ্গে মানানসই নয়। ইরানের দৃষ্টিতে এটি একটি অবক্ষয়মান আমেরিকান সাম্রাজ্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে—যে এখন সাধারণ চোরের ভূমিকায় নেমে এসেছে এবং ইরানি জনগণের সম্পদের ওপর অবৈধভাবে দখল বজায় রাখতে মরিয়া।

এই নতুন উত্তেজনার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলমান রয়েছে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

ইরানি কর্মকর্তারা বারবার অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিবর্তন এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ সংক্রান্ত মৌলিক প্রতিশ্রুতি পূরণে অনীহার কারণে এসব আলোচনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো প্রকৃত চুক্তির অংশ হিসেবে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থ অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে ফেরত দিতে হবে। ইরানের মতে, এই অর্থ ইরানি জাতির বৈধ সম্পত্তি; এটি ওয়াশিংটনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা তার জায়নবাদী মিত্রদের জন্য কোনো গোপন তহবিল নয়।

ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এই অর্থ ফেরত দেওয়াকে কোনো ধরনের “ছাড়” বা “রেয়াত” হিসেবে দেখানো যাবে না। তাদের মতে, যেকোনো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে অন্তত অর্ধেক অবরুদ্ধ সম্পদ ইরানের কাছে মুক্ত করতে হবে।

বাঘায়ি এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় অংশীদারদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধতা বা মূল্য ইরান স্বীকার করে না। তাদের মতে, এসব নিষেধাজ্ঞা কেবল ওয়াশিংটনের নৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হতাশারই প্রমাণ।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, ইরানি ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে এবং তা নিয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও দেখিয়েছে যে তারা কথিত “নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার” রক্ষক নয়। বরং শেক্সপিয়রের ভাষায়, তারা এক “বামন চোর”—এক ক্ষয়িষ্ণু শক্তি, যে বহু আগেই হারিয়ে ফেলা বৈশ্বিক আধিপত্যের বিশাল পোশাক পরে থাকার চেষ্টা করছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

সর্বশেষ সংবাদ

হরমুজের কাছে বিধ্বস্ত মার্কিন হেলিকপ্টারের পাইলটরা সুরক্ষিত: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ‘অ্যাপাচি অ্যাটাক’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ