ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে যে, ফ্রান্স প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি বড় অস্ত্র প্রদর্শনীতে ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে এবং দেশটির কোম্পানিগুলোর প্রদর্শনীর ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যারা গাজা যুদ্ধের কারণে ২০২৪ সালের ইউরোসেটরি ২০২৪ অস্ত্র প্রদর্শনীতে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল—পরে জানায় যে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা (মিসাইল ডিফেন্স) সম্পর্কিত সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রদর্শন করতে পারবে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্পর্কে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার পুনরায় অভিযোগ করে যে, ফ্রান্স প্যারিসের ওই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র প্রদর্শনীতে ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ করেছে এবং ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
চলতি মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ‘ইউরোসেটরি’-তে ইসরায়েলি সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফ্রান্স। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মেলায় শুধু সরকারি কর্মকর্তারাই নন, ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতারাও বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। প্রদর্শনীতে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র বা সামরিক ব্যবস্থা প্রদর্শন করতে পারবে না ইসরায়েলের কোনো কোম্পানি। তাদের কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত পণ্য (এয়ার ডিফেন্স প্রোডাক্ট) প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
মূলত একটি বিতর্কিত ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্স এই সিদ্ধান্ত নেয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আটক হওয়া ফ্লোটিলা কর্মীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং মন্ত্রী বেন-গভির তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন।
এই ঘটনার জের ধরেই ফরাসি প্রশাসন ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স

