রাশিয়ার এক শীর্ষ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ একটি বড় চিকিৎসা সম্মেলনে সমকামিতা এবং ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়কে মানসিক রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ১৮তম কংগ্রেসে বক্তব্য দিতে গিয়ে রোস্তভ-অন-ডনের ফিনিক্স মেডিকেল অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সায়েন্টিফিক সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ওলগা বুকহানোভস্কায়া “ট্রান্সজেন্ডার স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার” ধারণাটি উপস্থাপন করেন।
বুখানোভস্কায়া বলেন, “মানুষ এখন ‘অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করে। তাহলে আমরা বলতে পারি ‘ট্রান্সজেন্ডার স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার’, এবং এসব মানসিক রোগ তার আওতায় পড়ে।”
প্রস্তাবিত এই শ্রেণিতে পাঁচটি আলাদা অবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: “সমকামিতা”, “ফেটিশিস্টিক ট্রান্সভেস্টিজম” — অর্থাৎ যৌন উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্রস-ড্রেসিং, “ব্যক্তিত্বজনিত ব্যাধি”, “স্কিজোটাইপাল ডিসঅর্ডার” এবং “পর্যায়ক্রমিক নারীত্বসহ স্কিজোফ্রেনিয়া”, যা পুরুষদের মধ্যে মাঝে মাঝে নারীত্বপূর্ণ আচরণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশকে বোঝায়।
কুখ্যাত ইউক্রেনীয় সিরিয়াল কিলার আন্দ্রেই চিকাতিলোর মনস্তাত্ত্বিক প্রোফাইল তৈরি করা প্রয়াত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার বুকহানোভস্কির কন্যা ওলগা বুকহানোভস্কায়া আরও দাবি করেন, রাশিয়া বর্তমানে “ট্রান্সজেন্ডার মহামারি”-র মুখোমুখি, যা প্রচারণা ও বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তথাকথিত “চিকিৎসাবিজ্ঞানের পঞ্চম কলাম” ট্রান্সজেন্ডার অধিকার প্রচার করছে। তার ভাষায়, “ট্রান্স-এলজিবিটি-সমর্থক চিকিৎসক”, মনোবিজ্ঞানী এবং বক্তারা রোগী ও বৃহত্তর চিকিৎসা সমাজকে প্রভাবিত করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লুউএইচও) ১৯৯০ সালে সমকামিতাকে মানসিক রোগের তালিকা থেকে বাদ দেয়। এছাড়া ডব্লিউএইচও-এর আন্তর্জাতিক রোগ শ্রেণিবিন্যাস (আইসিটি-১১) অনুযায়ী, ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া হালনাগাদ মানদণ্ডে ট্রান্সসেক্সুয়ালিটিকেও মানসিক রোগের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
রাশিয়া ২০২৪ সালে আইসিটি-১১-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা স্থগিত করে, কারণ দেশটির মতে এর কিছু বিধান রাশিয়ার ঐতিহ্যগত মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
২০২৩ সালে রাশিয়া “লিঙ্গ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে চিকিৎসা হস্তক্ষেপ” নিষিদ্ধ করে আইন পাস করার পর, রাশিয়ান সোসাইটি অব সাইকিয়াট্রিস্টস “জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার” নিয়ে ক্লিনিক্যাল নির্দেশিকা প্রণয়ন করে। সেখানে স্বীকার করা হয় যে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের “সুস্থ” করা সম্ভব নয় এবং তাদের জন্য মনোচিকিৎসাগত সহায়তার সুপারিশ করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া “ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ” প্রচারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং “এলজিবিটি প্রচারণা” নিষিদ্ধ করেছে। দেশটি আন্তর্জাতিক এলজিবিটি আন্দোলনকে “চরমপন্থী” হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পশ্চিমা বিশ্বের প্রচারিত এলজিবিটিকিউ এজেন্ডা অন্যান্য দেশের মূল্যবোধ ও পরিচয়কে “ক্ষয়, মুছে ফেলা এবং অধীনস্থ” করার চেষ্টা করছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একাধিকবার বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অপ্রচলিত সম্পর্ক ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এসব সম্পর্কের প্রচার নিষিদ্ধ।
সূত্র: আরটি

