spot_img

ট্রাম্পের ‘আব্রাহাম চুক্তি’র প্রস্তাব উড়িয়ে দিল পাকিস্তান

অবশ্যই পরুন

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গঠিত বহুল আলোচিত ‘আব্রাহাম চুক্তিতে’ পাকিস্তানকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক এবং এটি কখনোই সম্ভব নয়।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘সামা টিভি’কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না, আমাদের এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত, যা আমাদের দেশের মৌলিক আদর্শকে ক্ষুণ্ন করে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট, অনড় এবং অপরিবর্তিত।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইতিমধ্যে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, আরও বেশি মুসলিম দেশ এই চুক্তিতে যোগ দিলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী হবে।

ট্রাম্পের এই বার্তার পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখালেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ‘পূর্ব জেরুজালেমকে’ রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তান কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। ফিলিস্তিনিদের রক্ত মাড়িয়ে কোনো চুক্তি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।” আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের কথায় একদিনের জন্যও ভরসা করা যায় না, তাদের সঙ্গে আমরা কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসব?

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধারণার অন্যতম কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত খাজা আসিফ। গত মাসেই তিনি ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ আখ্যা দিয়ে ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের ৭৮ বছরের ইতিহাসে দেশটি কখনও ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানি পাসপোর্টে স্পষ্ট লেখা থাকে, এটি ব্যবহার করে কোনো নাগরিক ইসরায়েল সফর করতে পারবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেওয়া পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জটিল এবং আত্মঘাতী একটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হতো। কারণ ফিলিস্তিন ইস্যু বাদ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যেকোনো উদ্যোগ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র গণ-অসন্তোষের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারত যা চায়, তা-ই পাবে : ট্রাম্প

ভারতের প্রতি অবিচল সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের এক অনুষ্ঠানে লাইভ ফোনকলে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ