spot_img

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণ যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি, পাকিস্তানকে জানালো ইরান

অবশ্যই পরুন

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ রোববার (১৭ মে) বিকেলে তেহরানে সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করেছে যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিরাপত্তা নয়, বরং অনিরাপত্তার পথ তৈরি করে।

তিনি বলেন, “অঞ্চলের কিছু সরকার মনে করেছিল মার্কিন উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তা এনে দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, এই উপস্থিতি শুধু নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থই নয়, বরং এটি অনিরাপত্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ঘালিবাফ “সাম্প্রতিক বড় যুদ্ধ”-এর সময় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় পাকিস্তান সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব পাকিস্তানের এই সমর্থনকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে এবং সংঘাত-পরবর্তী প্রথম ভাষণেই সর্বোচ্চ নেতা পাকিস্তানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইরান-পাকিস্তান সম্পর্ককে তিনি দৃঢ় বলে উল্লেখ করলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দ্রুত সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

ঘালিবাফ বলেন, “রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা অতীতের তুলনায় আরও বৃদ্ধি ও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত।” এ লক্ষ্য অর্জনে সংসদীয় কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের তীব্র সমালোচনা করেন।

তার ভাষায়, “ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা আমাদের অঞ্চলের দেশ ও জাতিগুলোর জন্য অনিষ্ট ও অনিরাপত্তা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না।”

বিদেশি হস্তক্ষেপের বিকল্প হিসেবে ঘালিবাফ আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি স্থানীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার ও সেনাপ্রধানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, “দুই দেশের জনগণ আগেও ঘনিষ্ঠ ছিল, এখন তারা আরও কাছাকাছি এসেছে। আমি অনুভব করি, দুই জাতি সত্যিই একে অপরকে ভালোবাসে এবং পাকিস্তানের জনগণ দিনরাত ইরানের সরকার ও জনগণের সফলতার জন্য দোয়া করে।”

নাকভি সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় ঘালিবাফের কূটনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদে আমরা দেখেছি, আপনি আলোচনার সময় ইরানের জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানেরও চেষ্টা করেছেন।”

তিনি চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সূত্র: মেহের নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ

কোরবানি দাতার চুল ও নখ কাটার নিয়ম

আরবি ১২ মাসের সর্বশেষ মাস জিলহজ। এ মাসে বিশেষ আমল কোরআন-হাদিসে বর্ণিত আছে। এর মধ্যে অন্যতম ইবাদত হচ্ছে মহান...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ