ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা সমন্বয়ের জন্য সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে প্রতিবেশী দেশগুলো এতে সাড়া না দেওয়ায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পরপরই ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানসহ একাধিক আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে ফোনালাপ করেন। ওই আলোচনায় তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে একটি সমন্বিত সামরিক অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সূত্রগুলো জানায়, জায়েদ আল নাহিয়ান মনে করতেন ইরানকে প্রতিরোধ করতে হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ প্রতিক্রিয়া জরুরি।
তবে সৌদি আরব, কাতারসহ প্রতিবেশীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—এটি তাদের যুদ্ধ নয়, তারা এতে যুক্ত হতে চায় না। এতে ইউএই ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনও অবগত ছিল এবং তারা সৌদি আরব ও কাতারকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিল।
দাবি করা হয়, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর প্রতিষ্ঠার পেছনে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব থেকে আসা হুমকির বিষয়টিও আলোচনায় তুলে ধরেন নাহিয়ান।
এদিকে, সমর্থন না পেলেও ইউএই সীমিত পরিসরে ইরানের বিরুদ্ধে কিছু হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইউএইকে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু করে—প্রায় ৩ হাজার ড্রোন ও শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয় বলে জানানো হয়েছে। পরে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্চে সৌদি আরব এককভাবে ইরানে হামলা চালালেও পরে তারা অবস্থান বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করে।
কাতারও ইরানের হামলার পর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা না বাড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেয়। বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানও সংঘাত এড়িয়ে যাওয়ার অবস্থান নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

