spot_img

যুক্তরাষ্ট্রে দর্শকদের জন্য অ্যামনেস্টির ‘ভ্রমণ সতর্কতা’

অবশ্যই পরুন

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিদেশি দর্শকদের জন্য বিরল এক ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু নাগরিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এই সতর্কবার্তায় দেশটিতে ‘ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ ও সহিংসতা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক দর্শকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতিতে যে কঠোরতা দেখা যাচ্ছে, তাতে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঝুঁকি এড়ানো অসম্ভব। তাদের অভিযোগ, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা আয়োজক দেশ হিসেবে মার্কিন সরকার-কেউই এখন পর্যন্ত দর্শকদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।

সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, দর্শনার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। এমনকি সীমান্ত বা অভ্যন্তরীণ এলাকায় পর্যটকদের আটক করা, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তল্লাশি এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো ঘটনার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও মিনিয়াপোলিসের মতো বড় শহরগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ের ধরপাকড় ও বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকার উদাহরণ টেনে এই উদ্বেগকে আরও জোরালো করা হয়েছে।

তবে অ্যামনেস্টির এই সতর্কবার্তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জিওফ ফ্রেমান এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ অনিরাপদ-এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। গত বছরও প্রায় পৌনে সাত কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক দেশটিতে সফর করেছেন। এই ধরনের সতর্কতা মূলত মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করার একটি কৌশল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্র জানাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের পুনর্নির্বাচন এবং ১৯টি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। একই সঙ্গে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম এবং হোটেল বুকিং আশানুরূপ না হওয়ায় বিশ্বকাপের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক লাভ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

যদিও মার্কিন প্রশাসন ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর করার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপের মূল চেতনা হলো বৈশ্বিক সম্প্রীতি, যা বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে পর্দা উঠবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি ভেন্যুর পাশাপাশি মেক্সিকোর ৩টি এবং কানাডার ২টি ভেন্যুতে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

ভবিষ্যতের এআই হবে আলাদিনের চেরাগের মতো: স্যাম অল্টম্যান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে, যা মানুষের সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ