হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আমেরিকার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ—কোনো পথেই আর কোনো আলোচনা বা বার্তা আদান-প্রদান করা হবে না।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘তেহরান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতার মৃত্যু হতে যাচ্ছে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত তা-ই হতে চলেছে।”
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনোভাবে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। সেক্ষেত্রে ইরানের পাল্টা হামলা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অথচ মঙ্গলবার সকালেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা করছেন তারা। কিন্তু ট্রাম্পের মারমুখী অবস্থান এবং ইরানের যোগাযোগ স্থগিতের সিদ্ধান্তে সেই সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করতে তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান। সিএনএন এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখতে এবং বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কাজ করছে। পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দেশটির সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব একটি বিশেষ ‘ব্রেকথ্রু’ নিয়ে কাজ করছে, যা হয়তো এই উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন সরাসরি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। পুরো বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
সূত্র: এনডিটিভি

