spot_img

গুনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে যেসব দোয়া পড়বেন

অবশ্যই পরুন

গুনাহ বা পাপ মানুষকে মহান আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে। সেই সঙ্গে ধীরে ধীরে এটি মানুষকে পাপাচারের দিকে ধাবিত করে। এমনকি মানুষ পাপ বা গুনাহের কারণে তার প্রাপ্য রিজিক থেকেও বঞ্চিত হয়। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪০২২)

অন্যদিকে ঋণ মানুষকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, পরাধীন ও সামাজিকভাবে দুর্বল করে ফেলে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।’ এ ক্ষেত্রে কেউ যেন গড়িমসি না করে সে বিষয়েও তাগিদ দিয়েছেন নবীজি (সা.)। তবে কেউ যদি একান্তই কোনোভাবে ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে ঋণমুক্তির দোয়াও বাতলে দিয়েছেন রাসুল (সা.)। নিচে কয়েকটি দোয়ার কথা তুলে ধরা হলো, গুনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়াগুলো করতে পারেন।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন- ইয়া আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাই অলসতা, অতিরিক্ত বার্ধক্য, গুনাহ আর ঋণ থেকে, আর কবরের ফিতনা এবং কবরের আযাব থেকে। আর জাহান্নামের ফিতনা এবং এর আজাব থেকে, আর ধনবান হওয়ার পরীক্ষার মন্দ পরিণাম থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাই দারিদ্রের অভিশাপ থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাই মসীহ দজ্জালের ফিতনা থেকে। ইয়া আল্লাহ! আমার গুনাহ-এর দাগগুলো থেকে আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন এবং আমার অন্তরকে সমস্ত গুনাহ-এর ময়লা থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে সাফ করার ব্যবস্থা করে থাকেন। আর আমার ও আমার গুনাহগুলোর মধ্যে এতটা দূরত্ব করে দিন, যত দূরত্ব আপনি দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯২৮)

আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন- ইয়া আল্লাহ নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই-দুশ্চিন্তা, পেরেশানি, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও লোকজনের আধিপত্য থেকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯২৯)

এছাড়াও সুহায়ল (রহ.) থেকে বর্ণিত অপর হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন- আবূ সালিহ (রহ.) আমাদের নির্দেশ দিতেন যখন আমাদের কেউ নিদ্রায় যায়, সে যেন ডান কাত হয়ে শয্যা গ্রহণ করে। এরপর সে বলবে-

اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَىْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَىْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَىْءٌ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

বাংলা: আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতি, ওয়া-রাব্বাল আরদি, ওয়া-রাব্বাল আরসিল আজিম, রাব্বানা ওয়া-রাব্বা কুল্লি সাইয়িন ফালিকাল হাব্বি, ওয়াননাওয়া ওয়া-মুনঝিলাত-তাওরাতি ওয়া ইনজিলি, ওয়াল ফুরকানি, উযুবিকা মিন সার্রি কুল্লি সাইয়িন, আনতা আখিজু বিনাসিয়াতিহিল-হুম্মানতাল আউয়ালু, ফাআইসা কবলাকা সাইয়ুন ওয়া-আনতাল আখিরু, ফালাইসা বাগদাকা সাইয়ুন ওয়া-আনতাজ-জাহিরু, ফালাইসা ফাওককা সাইয়ুন, ওয়া-আনতাল-বাতিনু, ফালাইসা জুউনাকা সাইয়ুক্‌দির, আন্নাল জাইনা ওয়া-আগনিনা মিনাল ফাকির।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আসমান, জমিন ও মহান আরশের প্রতিপালক। আমাদের প্রতিপালক ও সবকিছুর পালনকর্তা। আপনি বীজ ও উদ্ভিদের সৃষ্টিকর্তা, আপনি তাওরাত, ইনজিল ও ফুরকানের অবতীর্ণকারী। আমি আপনার কাছে সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই, আপনি তার মস্তক ধারণকারী (নিয়ন্ত্রণকারী)। হে আল্লাহ! আপনিই আদি, আপনার পূর্বে কোনোকিছু (অস্তিত্ব) নেই এবং আপনিই অন্ত, আপনার পরে কোনোকিছু নেই। আপনিই জাহির (আল্লাহ কাছে সবকিছু প্রকাশ), আপনার ঊর্ধ্বে কেউ নেই। আপনিই বাতিন (এমন কিছু নেই যা আল্লাহ’র কাছে গোপন), আপনার অগোচরে কিছু নেই। আমাদের ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং দারিদ্র্য থেকে আমাদের অভাবমুক্ত করে দিন।

তিনি (আবূ সালিহ) আবূ হুরায়রা (রা.) সূত্রে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদিসটি রিওয়ায়াত করতেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪০০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৪১)

অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের বিষয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার জনৈক মুকাতিব (বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে মালিকের সঙ্গে আজাদির চুক্তি করা) গোলাম তাঁর (আলী রা.) কাছে এসে বলল- আমি আমার চুক্তি অনুসারে বিনিময় মূল্য দিতে অপারগ হয়ে পড়েছি। আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন। তখন আলী (রা.) বললেন- তোমাকে এমন কিছু কালিমা আমি শিখিয়ে দেব কি, যেগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শিখিয়েছিলেন? তোমার জিম্মায় যদি ছবীর পাহাড় (আরবের বড় একটি পাহাড়) ঋণও থাকে, তবে এতে আল্লাহ তা’আলা তাও আদায় করে দেবেন। তুমি বলবে-

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

বাংলা: আল্লাহুম্মাক-ফিনি বি-হালালিকা, আন-হারামিকা, ওয়াগনিনি বিফাদলিকা আম্মান-সিওয়াকা

অর্থ: হে আল্লাহ! হারাম থেকে মুক্ত রেখে তোমার প্রদত্ত হালাল বস্তুই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দাও। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)

সর্বশেষ সংবাদ

সংসদে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল পাস

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সবার সম্মিতে এ বিল পাশ হয়। বিলটি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ