spot_img

খেজুর নাকি গুড়, ওজন নিয়ন্ত্রণে কোনটা বেশি উপকারী?

অবশ্যই পরুন

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই চিনির বিকল্প হিসেবে খেজুর ও গুড় বেছে নেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই দুই প্রাকৃতিক মিষ্টির মধ্যে আসলে কোনটি ডায়েটের জন্য ভালো? ক্যালরি, পুষ্টিগুণ ও শরীরের ওপর প্রভাব সব দিক বিবেচনায় নিলে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় সহজে। প্রসেসড সাদা চিনির বদলে মানুষ এখন প্রাকৃতিক মিষ্টির দিকে ঝুঁকছে। খেজুর ও গুড় দুটিই ঐতিহ্যবাহী এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে মনে রাখতে হবে এগুলো ‘স্বাস্থ্যকর’ হলেও ক্যালরি রয়েছে এবং অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়, ওজন কমাতে কোনটি ভালো বিকল্প?

পুষ্টিগুণের তুলনা: খেজুর বনাম গুড়

খেজুর

খেজুর একটি সম্পূর্ণ ফল, যা ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় খনিজে ভরপুর। এর ফাইবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি রোধ করে। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে—যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খেজুরে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড মেটাবলিজমের জন্য উপকারী। তবে ক্যালরি বেশি হওয়ায় পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ওজন কমাতে চাইলে সাধারণত দিনে ১–২টি খেজুর যথেষ্ট।

গুড়

গুড় তৈরি হয় আখের রস বা খেজুরের রস থেকে। এটি চিনির চেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত হলেও উৎপাদনের সময় ফাইবারের বেশিরভাগ অংশই হারিয়ে যায়। তবে এতে আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ থাকে। গুড়ে ফাইবার কম থাকায় এটি দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে এবং দ্রুত ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। চায়ে বা ডেজার্টে সহজে মিশে যাওয়ায় অনেক সময় পরিমাণ বোঝা কঠিন হয়ে যায় ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ হয়ে যেতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে দিনে আধা থেকে ১ চা চামচের বেশি নয় বলে পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন।

খেজুর ও গুড়ের উপকারিতা

  • পেট ভরার অনুভূতি ও ক্যালরি প্রভাব

খেজুরে থাকা ফাইবার পেটে ফুলে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি দেয়। তাই এটি স্ন্যাক্স হিসেবে ভালো বিকল্প। অন্যদিকে গুড় দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় তৃপ্তি ধরে রাখতে পারে না। ফলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা আবারও জাগতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছেউচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এই দিক থেকে খেজুর এগিয়ে থাকে।

  • রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব

খেজুরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি পর্যায়ের, কারণ এতে ফাইবার রয়েছে। ফলে রক্তে শর্করার ওঠানামা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে। গুড়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি, তাই এটি দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে পরিমাণে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

  •  ওয়ার্কআউটের আগে বা পরে কোনটা ভালো?

ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলেন ওয়ার্কআউটের আগে ১–২টি খেজুর দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি তাৎক্ষণিক এনার্জি দেয় কিন্তু শরীরে বড় ধরনের সুগার স্পাইক তৈরি করে না। ওয়ার্কআউটের পরও খেজুর ব্যবহার করা যায়, তবে পরিমাণ সীমিত রাখতে হবে। গুড়ও এনার্জি দিতে পারে, কিন্তু ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে এটি নিয়মিত ব্যবহার না করাই ভালো।

ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে খেজুর সাধারণত ভালো বিকল্প হিসেবে ধরা হয়। এর ফাইবার, তৃপ্তি দেয়ার ক্ষমতা এবং রক্তে শর্করার ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব এটিকে এগিয়ে রাখে। তবে গুড়ও সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে এমন নয়সচেতনভাবে ও সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে এটি ডায়েটের অংশ হতে পারে। মূল বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস।

সূত্র: এনডিটিভি  

সর্বশেষ সংবাদ

দ্রুত নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৩ মার্চ) ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ