বগুড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম (৪১) হত্যার ঘটনায় এক নারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাব-১২ সদস্যদের পৃথক অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হয়েছে।
রোববার রাতে ধুনট উপজেলার মোহনপুর ও সদরের ঠনঠনিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২) ও মোছা. বেবী খাতুন (৫২)। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাইফুল ইসলাম শহরের মাহবুবনগর এলাকার নওশেদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব ছিলেন এবং ব্যবসা করতেন। এছাড়া সাইফুল জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের দায়িত্বশীল ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
র্যাব কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, গত ১ মার্চ সকালের দিকে বগুড়া সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া মৌজার মাহবুবনগর শাহী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন নিজ জমিতে চারজন রাজমিস্ত্রি নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছিলেন হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম। এসময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে এসে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইয়ার মোহাম্মদ কোমর থেকে একটি ছুরি বের করে সাইফুল ইসলামের তলপেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে দ্রুত পালিয়ে যান।
স্থানীয় লোকজন সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। তবে পথে ওই দিন রাত সাতটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই আলী আজম (৪৫) বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেন, ছুরিকাঘাতে নিহত সাইফুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন।

