ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানে অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের বিস্তার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য “গুরুতর পরিণতি” ডেকে আনতে পারে।
মাক্রোঁ বলেন, “বর্তমান উত্তেজনা সবার জন্যই বিপজ্জনক। এটি বন্ধ হতে হবে। ইরানি শাসনকে বুঝতে হবে যে, এখন তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার কার্যক্রম বন্ধ করতে সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা করতে হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সবার নিরাপত্তার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।”
তিনি জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেছেন।
ইরানে মার্কিন হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “ইরানে হামলার কারণ হলো, ইরানি শাসনব্যবস্থার সহিংসতা ও দণ্ডমুক্তি—বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও দমন, যেগুলো গত কয়েকমাসে ব্যাপক আকার ধারণ করে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেছেন, এ ঘটনায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে ইইউ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের মামলার প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি এ কথা বলেন।
কায়া কাল্লাস আরও বলেন, ইউরোপের কনস্যুলার নেটওয়ার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ওই অঞ্চল থেকে প্রস্থান সহজ করতে কাজ করছে। “অত্যাবশ্যক নয় এমন ইইউ কর্মীদের অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে,” তিনি বলেন।
নরওয়ের প্রতিক্রিয়া
ইরানে হামলার প্রতিক্রিয়ায় নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলছেন, “ইসরায়েল এই হামলাকে প্রতিরোধমূলক আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে, কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য তাৎক্ষণিক ও আসন্ন হুমকি থাকতে হয়।”
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। তিনি বলেছেন, “আমি পুনরায় বলছি, দেশের নিরাপত্তা ও ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলে- এমন কোনো অভিযানে দেশকে জড়িয়ে ফেলার প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না।”
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, “শান্তিদূত আবারও তার আসল চেহারা দেখালো। ইরানের সঙ্গে সব আলোচনা ছিল আড়াল করার কৌশল। এতে কেউ সন্দেহ করেনি। আসলে কেউই সত্যিকারের কোনো আলোচনা করতে চায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশ্ন হলো—কে তার শত্রুর অগৌরবজনক পরিণতির জন্য অপেক্ষা করার মতো বেশি ধৈর্যশীল? যুক্তরাষ্ট্রের বয়স মাত্র ২৪৯ বছর। পারস্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আড়াই হাজার বছরেরও বেশি আগে। ১০০ বছর পর দেখা যাবে…”
সূত্র: রয়টার্স

