মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনায় তিনি নিজে ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ওই আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব এবং এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাক, কী হয়।’ ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ওমানের মধ্যস্থতায় শুরু হবে দ্বিপাক্ষিক এ আলোচনা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হবে বৈঠকটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায় এবং ইরানকে ‘খুবই কঠিন’ আলোচক হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আগে চাইলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যেত। আমরা তখন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বি–২ বোমারু বিমান পাঠাতে বাধ্য হতাম না। আমি আশা করি এবার তারা আরও যুক্তিসংগত হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রায় আট মাস বিরতির পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মাসকাটে পরোক্ষ পারমাণবিক কূটনৈতিক আলোচনা আবার শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গেল বছর ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষিতে ১২ দিনব্যাপী ত্রিদেশীয় সংঘাতের পর এই আলোচনা স্থগিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হলেও উভয় পক্ষই সেগুলোকে ইতিবাচক বলে মূল্যায়ন করেছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু এখনো দুই দেশের মধ্যে প্রধান মতবিরোধের বিষয়। ইরান চায়, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করার বিনিময়ে পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হোক। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বিদেশে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া ওয়াশিংটন আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান বারবার জানিয়েছে, তারা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে।
সূত্র: আনাদোলু

