জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যা ও তিনজনকে আহত করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম করা হয়েছে চারজনকে।
পটুয়াখালীর বাউফল, গলাচিপা, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, মুন্সীগঞ্জ ও পিরোজপুরের ইন্দুরকানী, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে হামলায় আহত হয়েছেন ১০২ জন। ঝালকাঠির রাজাপুর, পিরোজপুরের নাজিরপুর ও পাবনার আটঘরিয়ায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে ডেস্ক রিপোর্ট-
ময়মনসিংহ : হালুয়াঘাটে সহিংসতায় বিএনপি কর্মীর এক শিশু সন্তান ও অন্য এক ঘটনায় বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন। নিহত শিশু স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামের বিএনপির কর্মী দুলাল মিয়ার ছেলে ইমন (১২)। আহতরা হলো ভূবনকুড়া ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন, বিএনপিকর্মী উসমান গণী।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকরা ভ‚বনকুড়া ইউনিয়নের বাঘাইতলা বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছে বলে জানান বিএনপিকর্মীরা। ৩ জনকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম বলেন, পৃথক দুটি ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মুন্সীগঞ্জ : সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আব্দুল্লাহ গ্রামে বিএনপি সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও পালটা হামলায় মো. জসিম নায়েব (৩৫) নামের একজন নিহত ও অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকালের সংঘর্ষে গুরুতর আহত জসিমকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জসিম চর আব্দুল্লাহ গ্রামের মাফিক নায়েবের ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তার বাবা মাফিক নায়েব ও বড় ভাই মো. মোখলেছ। তারা ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার মাফিক নায়েবের বাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় নাসির দেওয়ান ও তার লোকজন জসিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। তাদের হামলায় নারীসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জসিমের আত্মীয় মো. দিদার বলেন, বহু বছরের বিরোধের জেরেই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং প্রতিপক্ষ তাদের এলাকা ছাড়া করতেই হামলা চালায়।
তবে নিহত জসিমের খালা হাওয়া বেগম জানান, শুক্রবার জসিম তার বাবা ও ভাইকে নিয়ে অটোরিকশায় মুন্সীগঞ্জ সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে অটোরিকশাটি উলটে গেলে তিনজন আহত হন। পরে তাদের দ্রুত ঢামেকে নেওয়া হলে চিকিৎসক জসিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফিরোজ কবির জানান, মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা শুনেছে, তবে বড় ধরনের কোনো ঘটনার কথা কেউ জানায়নি।
ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শহরের থানা রোডে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন-কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ আলী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিএনপিকর্মী খোকন হোসেন ও তার ছেলে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইবন হোসেন। আহতরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব নির্বাচিত হন। সেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান।
নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে ধানের শীষের কয়েকজন সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। সে সময় চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। থানার ১০০ গজ দূরে ঘটনা ঘটলেও ১ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত ইবনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল কর্মী-সমর্থকদের বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের ঘটনার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার বিকালে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করা হয়।
এতে উলেখ করা হয়, দাশপাড়া বিএনপির সভাপতি মো. আজম, যুবদল আহ্বায়ক গাজী গিয়াস, যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বাড়ি, মদনপুরা ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। কেশবপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা আরিফ, আবু তাহের, অলিউল্লাহ, আফজাল বয়াতি, বাচ্চু মালাকার ও দেলোয়ারকে মারধর করা হয়। কেশবপুর ইউনিয়নের সিকদার বাজারে জামায়াত শিবিরকর্মীরা বিএনপি সমর্থক মিজানের ফার্মেসি তালাবদ্ধ করে দিয়েছে। চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় বিএনপি নেতা ফিরোজ, কামাল মেম্বার, সালাম শরীফ, আলমগীর সরদারকে মারধর করা হয়। একই সময় হামলাকারীরা ওই এলাকার বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করে। কনকদিয়া ইউনিয়নে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থীর খালাতো ভাই মাহামুদের নেতৃত্বে বিএনপিকর্মী আলমগীর গাজীকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপি অফিসে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টায় এ হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে সময় অফিসের সামনে থাকা মোটরসাইকেল, টিভি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ও বাউফল যুবদলের আহ্বায়ক কাজী গিয়াস উদ্দিনের বাসা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
গলাচিপায় ছাত্র অধিকারের কর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের ৩ কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কে আলী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান, জুলাই যোদ্ধা বাপ্পী খান ও ছাত্রদল নেতা শরীফ আহম্মেদ হাসান আহত হন। আহতদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বাগেরহাট : বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন-পরবর্তী হামলা-পালটা হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় পালটাপালটি হামলায় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হামলা-পালটা হামলায় বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করেছে প্রতিপক্ষরা। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পালটাপালটি অভিযোগ করা হচ্ছে। হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, জামায়াত কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার ও মশিউর রহমানসহ ৫-৬ জনের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক ওই ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ ৭-৮ বিএনপিকর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ইমরান ও তারেক নামের দুজনকে আটক করেছে।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া এলাকায় বিএনপি প্রার্থী ভোট কম পাওয়ায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও না পেয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী শেখ আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি চন্দ্রপাড়া গ্রামে।
কচুয়া উপজেলার গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরে প্রতিপক্ষের মারধরে আসাদ মোলা, মোশারেফ শেখ ও শফিক মীর নামে বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন।
আহতদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থক মিজান শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন আসাদ মোলা ও মোশারেফকে মারধর করে। শরীফ শিকদার ও সজীব শিকদার মারধর করে শফিক মীরকে।
এছাড়া কচুয়ার বাধাল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত সমর্থকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে।
মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই আসনের বিজয়ী প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম।
চুয়াডাঙ্গা : আলমডাঙ্গায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াতকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া পৃথক চারটি হামলার ঘটনায় ১০ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। উপজেলার জগন্নাথপুর, রায়লক্ষ্মীপুর, জামজামি ও ভাংবাড়ীয়া গ্রামে হামলার ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর জখম একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে ভোটের ফলাফল ঘোষণায় জগন্নাথপুর কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল জয়ী হন। ফল প্রকাশের পরই গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় বিএনপির সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জামায়াতকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ৬ জন আহত হন।
আহতরা হলেন-জামায়াতকর্মী আবু হাসান, লুৎফর রহমান, বক্কর সিদ্দিক, ইকরামুল হক, শমিক, আতিয়ার রহমান ও শরিফুল ইসলাম।
শুক্রবার সকালে জামায়াতকর্মী মিনারুল ইসলামকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামে ওয়াদুদ ও জামজামি গ্রামে আলী হোসেন ও অন্তর হোসেন নামে দুই জামায়াতকর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল।
মুন্সীগঞ্জ : প্রতিপক্ষের হামলায় জেলা সদরে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ফয়সাল (৩০) ও জামাল নামে দুজন মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি ৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের গজারিয়া ও সদরের চরাঞ্চলে সহিংসতা চালান নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের সমর্থকরা। শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলায় ১২টি স্থানে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, হুমকি-ধমকি দিয়ে গ্রামছাড়া করা, কাউকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হুমকিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে বিএনপি নামধারী ধানের শীষ প্রতীকের লোকজন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোথাও হামলা, ভাঙচুর কিংবা কেউ আহত হয়েছে তেমন কোনো ঘটনার তথ্য আমরা পাইনি। সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভালো, আমাদের পুলিশের লোকজন মাঠে আছে। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
পিরোজপুর : ইন্দুরকানীতে ধানের শীষের কর্মীর ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছে চারজন। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মধ্য বালিপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে।
আহতের স্বজনরা জানান, মো. ইউনুস আলী যুবদলকর্মী। তিনি ধানের শীষের নির্বাচন করায় শুক্রবার বিকালে তার বাড়ির সামনে একা পেয়ে স্থানীয় জামায়াতকর্মী জুয়েল, সোহেল, রাসেল ও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা ও ইট দিয়ে তাকে আঘাত করেন। ইউনুস চিৎকার করলে তার স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে। উদ্ধারকারী আনছার আলী, সুফিয়া বেগম, ভাগনি মরিয়ামসহ জামায়াতকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন। পরে তাদের ইন্দুরকানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জামায়াতকর্মী জুয়েল জানান, নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় এবং জমাজমি নিয়ে বিরোধ থাকার কারণে হাতাহাতি হয়।
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, জমি নিয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
নাজিরপুরে দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দেওয়ায় স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বারের ঘরের মালামালসহ তিনটি ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের বুইচাকাঠী গ্রামে।
ওই গ্রামের ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ওই গ্রামের জামায়াতে ইসলামের কর্মী মো. এস্রাফিল হোসেন হাওলাদার তার পরিবারের কাছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চায়। কিন্তু তারা ভোট দিতে চাননি। এতে ওই জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ৪-৫ জন তাদের বাড়িতে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে।
হামলার ব্যাপারে জামায়াত নেতা এস্রাফিল হোসেন হাওলাদার বলেন, তার বোনকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ওই সাবেক ইউপি মেম্বার ৫০ হাজার টাকা নেন। টাকা চাইতে গেলে তাকে মারধর করে। এ নিয়ে ঝগড়া হয়েছে মাত্র।
ঝালকাঠি : রাজাপুরে এক জামায়াত নেতার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর সাউথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর নাম মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। তিনি উপজেলার উত্তর সাউথপুর এলাকার আব্দুর রউফ লাল মিয়ার ছেলে ও মঠবাড়ি ইউনিয়ন জামায়াত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।
পাবনা : আটঘরিয়া উপজেলার শ্রীকান্তপুরে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন করায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ কর্মীর বাড়িতে ও স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা এবং ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামে নির্বাচনের রাতেই এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে হামলার শিকার আওয়ামী লীগকর্মী ও স্থানীয়রা দাবি করেন।
মন্তব্য জানতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাঁদপুর : ফরিদগঞ্জে কয়েকটি স্থানে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ও বৃহস্পতিবার রাতে চরদুখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের লড়াইচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটায়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন।
নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের পক্ষে কাজ করায় তার কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরের একরামপুর, নূরবাগ ও মুছাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরে বন্দরের একরামপুর এলাকায় শামীম নামে আমাদের কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে। তার বাড়িঘরেও হামলা করেছে। একই এলাকার আনোয়ারকেও তারা মারধর করেছে। সেখানে একটি রিকশার গ্যারেজেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পাশের নুরবাগ এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মুছাপুর ইউনিয়নেরও কয়েকটি জায়গায় কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল কালামের ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা বলেন, এগুলো সব মিথ্যা অভিযোগ। ধানের শীষের কোনো কর্মী-সমর্থক এসব ঘটনায় জড়িত না।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, একরামপুরের ঘটনায় পুলিশ গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে আমরা বিষয়টিকে পারিবারিক দ্ব›দ্ব হিসেবে পেয়েছি। তারপরও আমার থানায় অভিযোগ করতে বলেছি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ‘বিএনপি জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেনি’ এ অভিযোগে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে মারধর ও তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিএনপি নেতা। এর জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতার লোকজনও পালটা হামলা চালিয়েছে বিএনপি নেতার বাড়িতে।
বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ থানায় করেনি। করলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

