ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌকায় হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলমান এমন সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩৩ জনে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী ইউএস সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, তারা একটি নৌযানে ‘লেথাল কাইনেটিক স্ট্রাইক’ চালিয়েছে, এতে নিহত হন তিনজন। মার্কিন সামরিক বাহিনী আগের মতোই কোনো প্রমাণ না দেখিয়ে দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা। নিহতদের তারা আখ্যা দিয়েছে ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ হিসেবে।
হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সাউথকম, যেখানে নৌকাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, যাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে তারা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকলেও এ ধরনের হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল।
শুক্রবারের এই হামলার আগে গেল সোমবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি নৌযানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওই ঘটনায় দুইজন নিহত হন, জীবিত উদ্ধার করা হয় একজনকে। সংস্থাটি জানায়, তারা ওই জীবিত ব্যক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডকে অবহিত করেছে। তবে তার অবস্থা বা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন বাহিনীর নৌযানে হামলা শুরুর পর পরবর্তী একটি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নৌকার ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরা জীবিতদেরও হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং অভিযানের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক ব্র্যাডলির বিরুদ্ধে তীব্র প্রশ্ন ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, জাহাজডুবির পর বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।
বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে প্রায় ৪০টি নৌযানের বিরুদ্ধে ৩৮টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন। তবে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ঠেকাতে এই সামরিক অভিযান প্রয়োজনীয় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ জড়িত।

