spot_img

ডিপি ওয়ার্ল্ড এপস্টেইনের সহযোগিতায় যুক্তরাজ্যের বন্দরের কাজ নিয়েছে

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাজ্যে টেমস নদীর তীরে এক দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে একটি বন্দর নির্মাণে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সহযোগিতা করেছিলেন জেফরি এপস্টেইন। এ জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব পিটার ম্যান্ডেলসনকে প্রভাবিত করতেও কাজ করেছিলেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি ইমেইল ম্যান্ডেলসনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন এপস্টেইন। সুলায়েম তখন লন্ডন গেটওয়ে প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগ ও সরকারি ঋণের গ্যারান্টি পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এপস্টেইনের ফরোয়ার্ড করা সুলায়েমের ইমেইলে লেখা ছিল, এক দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডের প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ অবকাঠামো প্রকল্প। নতুন বন্দরটি ৩৬ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রতি বছর তিন দশমিক দুই বিলিয়ন পাউন্ড যোগান দেবে।

পরে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এসেক্সে টেমস নদীতে একটি বন্দর নির্মাণ করে। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে বিন সুলায়েম এপস্টেইনকে আরেকটি মেইল পাঠিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, যেহেতু ব্যাংকগুলো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয়, তাই সরকারকে ঋণ সহায়তা বা গ্যারান্টি দিতে হবে।

একই বছরের নভেম্বরে বিন সুলায়েমের আরেকটি মেইল পাওয়া গেছে। সেটি ছিল পিটার ম্যান্ডেলসনের উদ্দেশে। তবে ম্যান্ডেলসনকে পাঠানোর আগে পর্যালোচনার দেওয়া হয় এপস্টেইনকে। ইমেইলটিতে প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারকে ঋণের গ্যারান্টি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের রাষ্ট্রীয় সফরের আগেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

ইমেইলে বিন সুলায়েম সতর্ক করে লিখেন, করদাতাদের সমর্থন ছাড়া এই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। তাই যুক্তরাজ্যের ব্যাংকগুলো যাতে বিনিয়োগের ঘাটতি মেটাতে উৎসাহিত হয় সে জন্য পিটার ম্যান্ডেলসনের কাছে বাণিজ্যিক অর্থায়নের গ্যারান্টি চাওয়া হয়। মেইলটির বার্তা কিছুটা সংশোধন করেছিলেন এপস্টেইন। তাঁর জবাব দেওয়া ইমেইলের বিষয়ের ঘরে লেখা ছিল- ‘স্মল এডিটস’।

যুক্তরাজ্যে বন্দর নির্মাণের আগে ডিপি ওয়ার্ল্ড আর্থিক সংকটে ছিল। তখনই এপস্টেইনের সঙ্গে বিন সুলায়েমের ইমেইল চালাচালি হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক সহায়তা দেয়। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড যুক্তরাজ্যে বন্দর নির্মাণের কাজ শুরুর পদক্ষেপ নেয়। এ নিয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেছিলেন, বিনিয়োগটি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রতি এক ধরনের আস্থার প্রতিফলন।

বন্দর নির্মাণ ঘিরে মেইল চালাচালির বিষয়টিও তুলে ধরে ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইন কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন। একটি ইমেইলে এপস্টেইন বলেছিলেন, ২০০৯ সালে একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টার সময় তিনি বিন সুলায়েমকে পিটার ম্যান্ডেলসনের ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়েছিলেন।

কুখ্যাত এই যৌন অপরাধী সংক্রান্ত যেসব নথি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করেছে, তাতে একটি ছবিতে ম্যান্ডেলসনকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে। এপস্টেইনের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিবরণও আছে অন্য নথিতে। সমালোচনার মুখে গত রোববার এই ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ লেবার পার্টির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

নথির বিষয়ে জানতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য টেলিগ্রাফ। তাদের মধ্যে ম্যান্ডেলসন বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তিনি অনুতপ্ত। ভুক্তভোগীদের কাছেও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

সর্বশেষ সংবাদ

নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির পর যাবে না: প্রেস সচিব

নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের পরপরই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে এবং এই প্রক্রিয়া কোনোভাবেই আগামী ১৭ বা ১৮...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ