গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে জার্মানি— এমন এক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল ফুটবল বিশ্বে। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জার্মানি জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করছে না। এবছরের ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ তাই মাঠে দেখা যাবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বয়কট নয় বরং খেলাধুলাকে ঐক্যের শক্তি হিসেবে দেখছেন তারা। এমনকি টুর্নামেন্টে ভালো ফলাফল বা তারকা আরও একটি বেড়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও তাদের।
মূলত ঘটনার সূত্রপাত ডিএফবি সদস্য ওকে গটলিশের একটি মন্তব্য থেকে। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক বসানোর হুমকির প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ বয়কট করা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’
বিবৃতিতে জার্মান ফুটবল বোর্ড জানিয়েছে, বয়কটের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা খেলাধুলাকে ঐক্যবদ্ধ করার শক্তি এবং ফিফা বিশ্বকাপের বৈশ্বিক প্রভাবের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমাদের লক্ষ্য এই ইতিবাচক শক্তিকে আরও জোরদার করা, তা ঠেকিয়ে দেয়া নয়। খেলাধুলা সংক্রান্ত বিতর্ক অভ্যন্তরীণভাবে হওয়া উচিত, প্রকাশ্যে নয়।’
তবে জার্মানি খেলার সিদ্ধান্ত নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সেনেগাল, ইরান ও আইভরিকোস্টের মতো দেশের ফুটবল ভক্তরা বিপাকে পড়েছেন।
ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও ভক্তদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক দাম নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
তবে সব বাধা পেরিয়ে জার্মানি চায় একটি শান্তিপূর্ণ ফুটবল উৎসব। ডিএফবি-র ভাষ্যমতে, ‘আমরা চাই ২০২৪ ইউরো কাপের মতো বিশ্বজুড়ে সমর্থকরা যেন স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনে মিলেমিশে ফুটবল উপভোগ করতে পারেন। আমরা মাঠে ফেয়ার প্লে বা ন্যায্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই লড়তে চাই।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসবে ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপের।

