মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ সম্মান দেওয়া হয়েছে ভারতের প্রয়াত বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর গত নভেম্বরে মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসায় ৮৯ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
ধর্মেন্দ্রর পাশাপাশি পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হচ্ছে আরও বেশ কয়েকজন তারকাকে। তাদের মধ্যে আছেন, টলিউডের নামকরা অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টপাধ্যায়, ভারতের তারকা ক্রিকেটার রোহিত শর্মা, গায়িকা অলকা ইয়াগনিকসহ আরও অনেকে।
ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই প্রথা অনুযায়ী এবছর সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ও ব্যতিক্রমী সেবার জন্য সেরা ব্যক্তিদের এই সম্মান দেওয়া হয়।
তিনটি বিভাগে দেওয়া হয় এই পুরস্কার: পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী। এ বছরের পদ্ম তালিকায় অসাধারণ অবদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেযোগ্য অবদানের জন্য এবছর পদ্ম পুরষ্কার দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে মোট ১৩১ জনকে।
এর মধ্যে পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন ৫ জন। ১৩ জন পাচ্ছেন পদ্মভূষণ সম্মান। পদ্মশ্রী দেওয়া হচ্ছে ১১৩ জনকে। আর মরণোত্তর পদ্ম সম্মান পাচ্ছেন ১৬ জন। সাধারণত প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানে পুরস্কার দিয়ে থাকে রাষ্ট্রপতি।
ধর্মেন্দ্রকে পদ্মবিভুষণ দেওয়া ছাড়াও ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবু সোরেন, বিজ্ঞাপণ জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব প্রয়াত পীযূষ পাণ্ডেকে মরণোত্তর পদ্ম ভূষণ সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে৷
ধর্মেন্দ্র ছয় দশকের বেশি সময় তিনশোর বেশি সিনেমায় অভিনয়ে অসামান্য প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন। তার পুরো নাম ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষাণ দেওল। ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের নাসরালিতে তার জন্ম।
দ্ররিদ্র কৃষক পরিবারের এই সন্তান শৈশব থেকে সিনেমার প্রতি প্রবল টান অনুভব করতেন। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ‘ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতায় জিতে’ পা রাখেন বলিউডে। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র। সেই থেকে শুরু।
ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে ‘ফুল অউর পাথথর’ এবং ‘অনুপমা’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’ সিনেমায় রোমান্টিক নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে নামের সঙ্গে ‘নায়ক’ তকমা লাগান ধর্মেন্দ্র।
এছাড়া ‘ধর্ম বীর’ ও ‘হুকুমত’ এর মত সিনেমায় ধর্মেন্দ্র পর্দা কাঁপিয়েছেন অ্যাকশন হিরো হিসেবে। নাম করেছেন ‘বন্দিনী’, ‘আনপাড়’, ‘সত্যকাম’, ‘আয়া সাওয়ান ঝুমকে’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘দোস্ত’ সহ আরও বহু সিনেমা করেও।
শুরুতে নায়ক হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে কমেডি চরিত্রে অভিনয়ের শক্তিশালী ছাপ রাখেন ধর্মেন্দ্রে। বিশেষ করে হৃষিকেশ মুখার্জি পরিচালতি ‘চুপকে চুপকে’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়।
তবে ধর্মেন্দ্রর ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়ায় রমেশ সিপ্পির কালজীয় সিনেমা ‘শোলে’ দিয়ে। ঠাকুরের ডাকে জয় আর বীরু নামের দুই তরুণ মাস্তানের ডাকাত ধরার সিনেমা হয়ে ওঠে বলিউডের ইতিহাস। সিনেমায় ধর্মেন্দ্র ও অমিতাভ অভিনীত জয় ও বীরুর বন্ধুত্ব আজও মনে রেখেছেন দর্শকরা।
ওদিকে, ভারতের বাঙালি অভিনেতা প্রসেনজিৎ এর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহু উপহার পেয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পুরস্কার পেয়েছেন প্রচুর। এবার পদ্মশ্রী তার সাফল্যের মুকুটে আরেক পালক জুড়ল।
একের পর এক আইকনিক স্টেলার পারফরম্যান্স, কখনও তিনি মনের মানুষ কখনো বা তিনি ভবানী পাঠক। যে চরিত্রই তিনি হাত রেখেছেন, সে চরিত্রের সঙ্গে ন্যায়বিচার করেছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিনেতা প্রসেনজিৎ এর পাশাপাশি বাঙালি কিংবদন্তী গায়িকা অলকা ইয়াগনিককেও শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

