মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের নিয়ে একটি নতুন ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ পর্ষদে যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছে বলে কমপক্ষে আরও আটটি দেশ জানিয়েছে। এর মধ্যে হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনাম আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছে।
শান্তি পর্ষদের সনদ সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থায়ী সদস্য পদ পেতে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে। তবে তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের ক্ষেত্রে অর্থ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। সংগৃহীত অর্থ গাজা পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সনদটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো নিশ্চিত করেছেন। ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লামও প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস ও পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশ আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে কানাডা, তুরস্ক, মিসর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও আলবেনিয়াও আমন্ত্রণের কথা বলেছিল।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শান্তি পর্ষদের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ হতে পারে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সময় এ ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের পর শান্তি পর্ষদ পরবর্তী পদক্ষেপ তদারক করবে। পরিকল্পনায় রয়েছে নতুন ফিলিস্তিনি কমিটি গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা পুনর্গঠন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পর্ষদ বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে একটি নতুন ও সাহসী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী কাঠামো হয়ে উঠতে পারে, কারণ গাজা যুদ্ধ থামাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

