spot_img

মুসলিম ন্যাটোতে তুরস্ক-সৌদির ভরসা পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার

অবশ্যই পরুন

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলা হচ্ছে। এই সম্ভাব্য জোটের কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যোগদানের বিষয়ে উন্নত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল জোটরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে।

এই উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রিয়াদে স্বাক্ষরিত সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (Strategic Mutual Defence Agreement – SMDA) থেকে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের স্বাক্ষরে সম্পাদিত এই চুক্তিতে একটি সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার আওতায় কোনো এক সদস্যের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে—ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর অনুরূপ।

চুক্তিটি কয়েক দশকের সামরিক সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, যার মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থায় উদ্ভূত নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

মুসলিম বিশ্বে একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান এই কাঠামোতে নিয়ে আসে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা। দেশটির শাহিন সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, যার পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি, জোটের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে পারে। এর সঙ্গে সৌদি আরবের আর্থিক সামর্থ্য ও আঞ্চলিক প্রভাব যুক্ত হয়ে একটি কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে পারে।

এদিকে, তুরস্কের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত রূপ দিতে পারে। আঙ্কারা সিরিয়া ও লিবিয়ায় পরিচালিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতা, বায়রাকতার ড্রোনসহ উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের সক্ষমতা জোটে যুক্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের রণকৌশল একত্রিত হলে একটি শক্তিশালী ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে উঠতে পারে। এতে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়বে।

তবে একটি আনুষ্ঠানিক ‘মুসলিম ন্যাটো’ গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে, আর সমালোচকেরা তুরস্কের ন্যাটো সদস্যত্বসহ বিদ্যমান জোটগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক করছেন। এখনো তুরস্কের যোগদান বা জোটের কাঠামো নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

তবুও, এই আলোচনা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ নতুন ধরনের বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসলামাবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে: প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ