প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে কথিত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে এবার হাইপারসনিক মিসাইল ছুঁড়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোরে কাস্পিয়ান সাগরের কাছে কাপুস্তিন ইয়ার পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র। উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ান বিমান বাহিনী। লক্ষ্যবস্তু ছিল ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের সীমান্তঘেঁষা পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চল।
রাশিয়ার দাবি, শব্দের গতির ১০ গুণেরও বেশি বেগে ছোটা এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব। ছয়টি ওয়ারহেডসহ পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম এটি। বিনা বাধায় ৩ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে ক্ষেপণাস্ত্রটি। বিশ্বের আর কোনো দেশের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র নেই বলে দাবি মস্কোর। একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতাও রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটির।
বিশ্লেষক জেফ্রি লুইস বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্রটি ছয়টি ওয়ারহেড বহন করছিল, প্রতিটিতে ছিল ছয়টি করে সাবমিউনিশন। ফলে একসঙ্গে ছয় সেট ক্ষেপণাস্ত্র ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আঘাত হানে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে কথিত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে এই আঘাত করেছে বলে দাবি রাশিয়ার। তবে কিয়েভ বলছে, এমন কোনো হামলা করেনি ইউক্রেন। এই হামলাকে ‘বৈশ্বিক হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া চেয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এর আগে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে ডামি ওয়ারহেডসহ ওরেশনিক নিক্ষেপ করেছিলো রাশিয়া। এবার বিস্ফোরক ওয়ারহেড ব্যবহৃত হয়ে থাকলে, সেটিই হবে প্রথম পূর্ণ ধ্বংসাত্মক প্রয়োগ।

