যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে—এমন দেশের তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্তে তালিকাটি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের আওতায় আনার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২.৩১ টাকা হিসাবে) এই অঙ্ক প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কিছু দেশের নাগরিকদের বি১ ও বি২ ভিসার জন্য ভিসা বন্ড দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এই নিয়ম চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কার্যকর হবে।
সেই ৩৮টি দেশ হলো—বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, ভুটান, বটসওয়ানা, বুরুন্ডি, কেপভার্দে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, আইভরিকোস্ট, কিউবা, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে।
উল্লেখ্য, ভিসা বন্ড হলো একটি অর্থের নিশ্চয়তা, যা ৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার বা ১৫ হাজার ডলার হতে পারে। টাকার সঠিক পরিমাণ নির্ধারিত হবে ভিসা ইন্টারভিউতে। আবেদনকারীকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ‘DHS Form I-352’ পূরণ করতে হবে।
এই অর্থ শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট Pay.gov এর মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। কনসুলার অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী বন্ড দিতে হবে; আগে থেকে অর্থ দিলে তা ফেরত আসবে না। আর বন্ড দেওয়া মানে ভিসা নিশ্চিত নয়।
এছাড়া ভিসাধারীকে অবশ্যই এই তিন বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ডালেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। শর্ত না মানলে প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হতে পারে বা প্রস্থান সঠিকভাবে রেকর্ড হবে না।
ভিসা বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং টাকা ফেরত দেওয়া হবে যদি—ভিসাধারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে, ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেনি, ভিসাধারী পোর্টে প্রবেশের চেষ্টা করেছে কিন্তু ভিসা অনুমোদিত হয়নি। ভিসা বন্ড লঙ্ঘন হবে যদি অনুমোদিত সময়ের পরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা, ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের চেষ্টা করা বা আশ্রয় আবেদন করা
এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো বি১ ও বি২ ভিসার মেয়াদ অতিক্রম কমানো, যাতে বাংলাদেশিসহ এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাপনা আরও নির্ভরযোগ্য হয়।

