আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কেবল দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেই ফাটল ধরায়নি, বরং খোদ ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, মোস্তাফিজকে দল থেকে রিলিজ দেওয়ার এই বড় সিদ্ধান্তটি বিসিসিআই-এর উচ্চপর্যায়ে অত্যন্ত গোপনে নেওয়া হয়েছে, যেখানে বোর্ডের অনেক কর্মকর্তা বা আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কোনো সদস্যের নূন্যতম মতামত নেওয়া হয়নি।
গত মাসে নিলামে ৯.২০ কোটি রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোস্তাফিজকে দলে নিলেও শনিবার হঠাৎ তাকে রিলিজ দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বিসিসিআই-এর একজন কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা নিজেরাও এই খবর সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি আমাদের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি।’
স্পষ্টতই, আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখেই এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া গত শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেকেআর-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা মোস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে অবমুক্ত করে। ধারণা করা হচ্ছে, বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় মাত্র দু-একজন এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন, যা এখন অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিসিআই-এর এই অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপের জবাবে বাংলাদেশ সরকার দেশজুড়ে আইপিএল সম্প্রচার অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ এর পাশাপাশি বিসিবি তাদের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার জন্য আইসিসিকে কড়া চিঠি দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেকেআর-এর মালিক শাহরুখ খানকে লক্ষ্য করে চলা উগ্রপন্থীদের ক্রমবর্ধমান দাবির মুখে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়া নেওয়া এই ‘গোপন’ সিদ্ধান্ত আইপিএলের পেশাদারিত্বকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

