বলিউডের স্বর্ণালি যুগের অন্যতম আইকনিক জুটি ছিলেন হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্র। দীর্ঘ পথচলা, ভালোবাসা আর পারিবারিক বন্ধনে গড়া সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত থেমে গেছে চিরবিদায়ে। স্বামী ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে নিজের অনুভূতির কথা জানালেন হেমা মালিনী।
সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু তাকে ‘অসান্ত্বনীয় ধাক্কা’ দিয়েছে। অভিনেত্রী বলেন, ধর্মেন্দ্র অসুস্থ থাকলেও পরিবার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার আশায় ছিল। এমনকি তার ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ইটাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হেমা বলেন, ধর্মেন্দ্রর অসুস্থতার সময়টা পরিবারের জন্য ছিল ভীষণ কঠিন। এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন সবাই। আমি, ঈশা, অহানা, সানি, ববিআমরা সবাই একসঙ্গে ছিলাম। অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হেমা জানান, আগেও বহুবার অসুস্থতা কাটিয়ে উঠেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তাই এবারও তারা ভেবেছিলেন, তিনি ফিরে আসবেন।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রার্থনা সভায় হেমা ও তার মেয়েদের উপস্থিত না থাকা নিয়ে যে পারিবারিক বিভেদের গুঞ্জন ছড়ায়, তা উড়িয়ে দেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, বিষয়টি একান্তই পারিবারিক এবং আলাদা স্থানে একই সময়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল।
হেমা স্মরণ করেন, অক্টোবরে নিজের জন্মদিনে ধর্মেন্দ্র তাকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন। ডিসেম্বরের ৮ তারিখে তার জন্মদিন ঘিরে তখন প্রস্তুতিও চলছিল। হেমা বলেন, ওকে এভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে দেখা আমার জন্য ভীষণ যন্ত্রণার ছিল। কেউ যেন এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে না যায়।
হেমা জানান, চারপাশের অনেক কিছুই তাকে ধর্মেন্দ্রর কথা মনে করিয়ে দেয়। খাবার থেকেও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, আমাদের একসঙ্গে তোলা অনেক ভিডিও আছে। সেগুলো দেখলেই চোখে পানি চলে আসে।
জীবনের শেষদিকে ধর্মেন্দ্র লোনাভালার ফার্মহাউসে বেশি সময় কাটাতেন। হেমা জানান, তিনি প্রায়ই ঘি নিয়ে আসতেন তাদের জন্য। হেমা যখন মথুরায় এমপি হিসেবে কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তখন ধর্মেন্দ্র ফার্মহাউসেই থাকতেন। হেমা বলেন, আমি ফিরে এলে ও মুম্বাইয়ে আমার কাছে চলে আসত। এভাবেই আমরা সন্তান আর নাতি-নাতনিদের নিয়ে সুখে ছিলাম।
শোক সামলেও কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হেমা মালিনী। মথুরায় যাওয়ার পাশাপাশি আবারও শাস্ত্রীয় নৃত্যের মঞ্চে ফিরবেন তিনি কারণ এমনটাই ধর্মেন্দ্র চাইতেন। তিনি আরও জানান, ধর্মেন্দ্রর লোনাভালার ফার্মহাউসকে ‘মিনি পাঞ্জাব’-এ রূপান্তর করে সেখানে একটি জাদুঘর তৈরির পরিকল্পনা করছেন সানি দেওল।
উল্লেখ্য, ধর্মেন্দ্র প্রথমে প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চার সন্তান সানি দেওল, ববি দেওল, বিজেতা ও অজিতা। পরে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের দুই কন্যা ঈশা দেওল ও অহানা দেওল।

