ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চালানো ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের জনগণ দেখিয়ে দিয়েছে—তারা আগ্রাসন ও জবরদস্তির কাছে কখনো মাথানত করে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) ইসফাহান শহরে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, ‘১২ দিনের প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তারা তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আলোচনার দাবি তোলে—যা মূলত আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়ারই শামিল। কিন্তু ইরানি জাতি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।’
দেশের ভেতরে কিছু গণমাধ্যমের ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থার প্রভাব অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সামনে যে ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে তা এতটা কার্যকর নয়। এসব বর্ণনার উদ্দেশ্য ছিল ভয় সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে মানসিকভাবে স্থবির করে দেওয়া।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ব্যাখ্যা করে আরাগচি বলেন, প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা—যা দেশের নীতি, মর্যাদা ও স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে অব্যাহতভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। জেসিপিওএ (পরমাণু চুক্তি) ও পরবর্তী আলোচনার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য মূল্যবান সম্পদ।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো সরাসরি দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করা।
তিনি আরও জানান, ‘আমাদের স্বীকার করতে হবে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আবার এটাও মানতে হবে যে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশ এগোতে পারে। নিষেধাজ্ঞার কিছু খরচ আছে, তবে এগুলো অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা সংশোধনের সুযোগও তৈরি করে।’
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

