প্রাপ্তবয়স্কদের একটি সাইটে নিজের এবং আরও কয়েকজন নারীর ছবি প্রকাশ পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউরোপের দেশ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, পর্নসাইটটিতে শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, তার বোন আরিয়ানা মেলোনি এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী এলি শাখলিনের ছবিও আপলোড করা হয়েছিল। ছবিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল অশ্লীল ভাষা ও যৌনতামূলক উপস্থাপন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
বিতর্ক ছড়ানোর পর, গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) পর্নসাইটটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সাইট ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটির অপব্যবহার করছিল, তাই তারা সেটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বন্ধ হওয়ার আগে সাইটটির সাত লাখ সাবস্ক্রাইবার ছিল।
জানা যায়, ছবিগুলো বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎস থেকে সংগ্রহ করে পর্নসাইটে আপলোড করা হয়। পরে সেগুলোর সঙ্গে অশ্লীল লেখালেখির মাধ্যমে ‘আকর্ষণীয়’ করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইতালির শীর্ষ দৈনিক কোরিরে দেলা সেরা–কে মেলোনি বলেন, “এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। যেসব নারী এতে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন, আমি তাদের পাশে আছি এবং সহানুভূতি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০২৫ সালেও এমন মানুষ আছে যারা নারীর মর্যাদাকে পিষে ফেলতে চায়, আর তাদের অশ্লীল অপমানকে বৈধ বলে মনে করে।”
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পর্নসাইটটি ইতিপূর্বেও বিভিন্ন সময় নারী বিদ্বেষী কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিল। তবে এতদিন কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান