হুতি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিলেও তাদের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরানো হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একথা স্মরণ করিয়ে দেশটির সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন হুতিদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।
হুতি মিলিশিয়াদের আগের নামে সম্বোধন করে ব্লিঙ্কেন বিবৃতিতে বলেন, ‘ইয়েমেনে অশান্তি সৃষ্টির জন্য আনসারুল্লাহ নেতা আবদুল মালিক আল-হাউথি, আব্দুল খালিক বদর আল-দীন আল-হাউথি এবং আবদুল্লাহ ইয়াহিয়া আল-হাকিম নিষেধাজ্ঞার অধীনেই থাকছেন।’
বিবৃতিতে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে। সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের শনাক্ত করে নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে।’
গৃহযুদ্ধে পর্যুদস্ত ইয়েমেনের রাজধানীসহ কিছু এলাকা হুতিদের দখলে।
হুতিরা শিয়া ইরানের মদদ পায়। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শিয়া ইরান আবার ইয়েমেনের প্রতিবেশী সুন্নি সৌদি আরবের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। এ মুহূর্তে হুতিরাই এখন ইয়েমেনের সবচেয়ে দাপুটে শক্তি। তবে দৃশ্যত তারা সরকারকে উৎখাতের পরিবর্তে চাপে রেখে সুবিধা আদায়ের কৌশল নিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ক্ষমতা দখলের দায় না নিয়ে দেশের নেতাদের নিজেদের করুণার ওপরে রাখতেই এই কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সি মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে হুতিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। এই ঘোষণার পর ইয়েমেনকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকট হিসাবে বর্ণনা করেছিল জাতিসংঘ। সেখানে ২ কোটি ৪০ লাখ লোকের মধ্যে ৮০ ভাগেরই সহায়তার প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্ত দেশটির কয়েক কোটি মানুষকে চরম দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেবে বলেও ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল জাতিসংঘ।