তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদনশীলতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের অবিলম্বে নিজ নিজ কারখানায় স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আসন্ন ডিসেম্বরের মধ্যেই তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। শ্রমিক, মালিক ও সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, সাধারণত পাঁচ বছর পর পর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা হলেও শ্রমিক স্বার্থ বিবেচনায় এবার তিন বছরের মাথায় নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠক ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় বৈঠকও দ্রুত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মজুরি বোর্ড নিশ্চিত করেছে যে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব আলোচনা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ করে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
বোর্ডের নিরপেক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি আরও জানান, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করে একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হবে।
শিল্পে অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, সাধারণ ও শান্তিকামী শ্রমিকদের আন্দোলনে কিছু বহিরাগত গোষ্ঠী সুযোগ নিয়ে উসকানি দিচ্ছে। যার ফলে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত ও সহিংসতায় সাধারণ শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট ধৈর্য ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।
জাতীয় অর্থনীতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এ দেশের পোশাক খাতের যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের মেয়াদে যার সম্প্রসারণ ঘটেছিল-বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড আজ বিশ্বে যে সুনাম কুড়িয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে শ্রমজীবী মানুষের অক্লান্ত ঘাম ও ত্যাগ। সরকার সবসময় তাদের পাশে সংবেদনশীলতার সঙ্গেই থাকবে।

