নেপালের হিমালয়ে এভারেস্ট বেসক্যাম্পের কাছাকাছি দু’টি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে এক ভারতীয় পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টার দিকে সোলুখুম্বু জেলার ফেরিচে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পর্যটকের নাম বসন্তকুমার বলরামরামাদু। তিনি ফিশটেল এয়ারের একটি হেলিকপ্টারে ছিলেন বলে জানিয়েছে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেরিচে এলাকায় একই সময়ে অবতরণের চেষ্টা করছিল এয়ার ডায়নাস্টি ও ফিশটেল এয়ারের দুটি হেলিকপ্টার। এ সময় একটির সঙ্গে অন্যটির সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি হেলিকপ্টারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সোলুখুম্বু জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত ব্যক্তিকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় দুটি হেলিকপ্টারে মোট কতজন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে এ সংঘর্ষ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে নেপাল পুলিশ।
ফেরিচে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩৭১ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। হিমালয়ঘেরা এই এলাকায় মূলত শেরপা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এভারেস্ট বেসক্যাম্পে যাত্রা শুরু করতে অনেক পর্যটক ও পর্বতারোহী এই এলাকা ব্যবহার করেন। দুর্ঘটনাস্থলটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এবং এভারেস্ট বেসক্যাম্প থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে।
নেপালে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পর্যটক ও পর্বতারোহীদের যাতায়াত, জরুরি উদ্ধারকাজ এবং মালপত্র পরিবহণে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। তবে হিমালয়ের দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এসব এলাকায় আকাশযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষ করে হিমালয়ের উঁচু এলাকায় বায়ুর ঘনত্ব কম থাকায় হেলিকপ্টার পরিচালনা করা বেশ কঠিন। বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় হেলিকপ্টারের রোটর বা পাখা পর্যাপ্ত উত্তোলনক্ষমতা তৈরি করতে পারে না। একই সঙ্গে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। ফলে হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ও অবতরণে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়। আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। সূত্র: রয়টার্স

