এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একইসঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আস্থা তৈরির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনকে (সিআইসিএ) শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে সিআইসিএর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হুমায়ুন কবিরের প্রথম প্রস্তাব হলো, ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সেগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু করা। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও বেশি সরাসরি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি সদস্যদেশগুলোর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিনিময় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপদ, উন্মুক্ত ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিসর গড়ে তুলতে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সিআইসিএকে সুস্পষ্ট আইনি মর্যাদা, শক্তিশালী সচিবালয়, নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণব্যবস্থাসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন জানান।
এ বছর আজারবাইজানের সভাপতিত্বে ‘শক্তিশালী সিআইসিএ: এশিয়ায় সংযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ প্রতিপাদ্যে এশিয়ার জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ছাড়াও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে এশিয়াজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সিআইসিএ গঠিত হয়। লাও পিডিআরের যোগদানের মধ্য দিয়ে সংস্থাটির সদস্যদেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯-এ।
সম্মেলনে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সিআইসিএর সভাপতিত্বে আজারবাইজানের দায়িত্ব অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগও অনুমোদন করা হয়।

