spot_img

১৯৪ বছর বয়সী কচ্ছপের জিনে মানুষের দীর্ঘায়ুর রহস্য খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

অবশ্যই পরুন

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলচর প্রাণী হিসেবে পরিচিত জোনাথন। আনুমানিক ১৯৪ বছর বয়সী এই বিশালাকার কচ্ছপের জিন বিশ্লেষণ করে দীর্ঘায়ুর রহস্য সম্পর্কে নতুন কিছু সূত্র পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে মানুষের বয়সজনিত কোষীয় ক্ষয় ধীর করার চিকিৎসা উদ্ভাবনে সহায়তা করতে পারে।

জোনাথন, অ্যালডাবরা প্রজাতির কচ্ছপ। ভারত মহাসাগরের সেশেলস দ্বীপপুঞ্জে এ প্রজাতির আবাস হলেও জীবনের বেশির ভাগ সময় সে কাটিয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ অধীনস্থ অঞ্চল সেন্ট হেলেনায়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশালাকার কচ্ছপের দীর্ঘায়ুর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো তাদের ধীরগতির বিপাকীয় প্রক্রিয়া। এতে কোষের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়া কম হয় এবং ডিএনএর ক্ষতিও তুলনামূলক কম হতে পারে।

গবেষকেরা জোনাথনের সম্পূর্ণ ডিএনএ বা জিনোম এবং জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী এপিজিনোম বিশ্লেষণ করেছেন। এতে ২৮৭টি জিনগত ভিন্নতা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো বয়সের সঙ্গে হওয়া কোষীয় ক্ষতি থেকে তাকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার সহলেখক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের জীববিজ্ঞানী জাস্টিন গারলাখ বলেন, জোনাথনের কিছু জিন ডিএনএ মেরামত ও প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকর। এসব প্রক্রিয়া বার্ধক্য ধীর করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

গারলাখের মতে, মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু জোনাথনের শরীরে এখনো তুলনামূলক কমবয়সী প্রাণীর মতো জিনগত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বজায় রয়েছে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, নাকি পুরো প্রজাতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

১৮৮২ সালে সেন্ট হেলানা দ্বীপে পৌঁছানোর পর জোনাথন (বা দিকে) 

এদিকে কচ্ছপ জোনাথনের সঠিক বয়স নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। সঠিক বয়স জানা না থাকলেও ১৮৮২ সালে সেন্ট হেলেনায় তোলা একটি ছবিতে পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় দেখা যায় তাকে। বিশালাকার কচ্ছপ সাধারণত প্রায় ৫০ বছর বয়সে পূর্ণ আকারে পৌঁছায়। সেই হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে তার বয়স আনুমানিক ১৯৪ বছর। ২০২২ সালে সেন্ট হেলেনার গভর্নর তার জন্মদিন হিসেবে ১৮৩২ সালের ৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।

তবে তার বয়স ২০০ বছর বা তারও বেশি হতে পারে বলে মনে করেন গারলাখ। বর্তমানে জোনাথনের ওজন প্রায় ১৮০ কেজি। চোখে ছানি পড়ায় দৃষ্টিশক্তি হারালেও এখনও সে সক্রিয় এবং পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।

মানুষের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে গবেষণা

গবেষকেরা জোনাথনের মুখের ভেতর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তার ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। এতে সেশেলসের অ্যালডাবরা অঞ্চলে বসবাসকারী তুলনামূলক কমবয়সী একই প্রজাতির কচ্ছপের সঙ্গে তার জিনগত বৈশিষ্ট্যের উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি কোষে শক্তি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়াও তার শরীরে ভালো অবস্থায় রয়েছে।

গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালেল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. স্টিফেন ক্লার্ক বলেন, দীর্ঘজীবী প্রাণীদের ক্ষেত্রে মাইটোকন্ড্রিয়ার সুস্থতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ১১০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যেও কার্যকর মাইটোকন্ড্রিয়া দেখা গেছে।

ক্লার্কের মতে, মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা বাড়াতে পারে এমন ওষুধ নিয়ে কাজ করছেন তারা। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, একটি মাত্র কচ্ছপের জিন বিশ্লেষণ করে তার দীর্ঘায়ুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য আরও কচ্ছপ ও দীর্ঘজীবী প্রাণীর ওপর গবেষণা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোর অধ্যাপক ভিনসেন্ট জে. লিঞ্চও গবেষণাটির কিছু পদ্ধতিতে ভুল ফল পাওয়ার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের সহযোগী অধ্যাপক ইয়েলেনিয়া কিয়ারির মতে, এ ধরনের গবেষণা বার্ধক্য ও ক্যানসার সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে মানুষের চিকিৎসায় কাজে লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত বাংলাদেশ-কিরগিজস্তান

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রম গতিশীলতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তান। বিশেষ করে মধ্য...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ