spot_img

যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত নিঃসঙ্গতায়’ ভুগছে: ইরান

অবশ্যই পরুন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন কৌশলগত নিঃসঙ্গতার মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পেছনে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারকে উৎখাত করা নয়, বরং ইরানি-ইসলামি সভ্যতাকে ধ্বংস করা। বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে পার্স টুডে।

আকরামিনিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আগে বলে আসছিল, তাদের বিরোধিতা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, ইরানের সাধারণ জনগণ বা সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু গ্রিসের অ্যাক্রোপলিসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের সেই অবস্থানের অসংগতি প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের এই সামরিক মুখপাত্র বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান যুদ্ধের লক্ষ্য শুধু ইরানি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা নয়; বরং দেশটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ইরানি-ইসলামি সভ্যতাকে ধ্বংস করা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এসব বক্তব্য ইরানি সামরিক কর্মকর্তার অভিযোগ। বক্তব্যগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি।

বক্তব্যে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ‘সফট পাওয়ার’ বা কোমল শক্তির গুরুত্বও তুলে ধরেন আকরামিনিয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে সামরিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় এই ধারণা বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করে। প্রচলিত সামরিক শক্তির পরিপূরক হিসেবে সফট পাওয়ার একটি দেশের প্রভাব বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

তিনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে অন্য দেশের সেনাবাহিনীর অন্যতম পার্থক্য হলো এর ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনা। তাঁর দাবি, সেনাবাহিনীর আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই চেতনা গড়ে তোলা এবং ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষ নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরতে যেসব বয়ান তৈরি করে, সেগুলোর মোকাবিলা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সমাজের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, দেশটির বিপ্লবের নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করে ইরানের জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। তাঁদের ধারণা ছিল, এর মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব হবে।

তবে আকরামিনিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের জনগণ ঐতিহাসিক দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও ইরানের জনগণ নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে।

আকরামিনিয়ার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং ইরানের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ঘিরে তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রভাব ও জনমত গঠনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান, যুদ্ধের উদ্দেশ্য এবং ইরানের অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও স্বাধীন সূত্রের তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন। পার্সটুডে

সর্বশেষ সংবাদ

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ