ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করতে পারে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। একই সঙ্গে ইরানের আশপাশের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকেও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তার আগুন পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করবে।
এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি ও মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটও চলতে থাকবে।
আবদোল্লাহির ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে অতীতে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধগুলো দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও জনগণের দৃঢ়তার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি ইরানের নেতৃত্ব, সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে দাবি করেন, দেশটি যেকোনো ধরনের নতুন হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন এই ইরানি কমান্ডার। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগকে সংঘাতের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও তীব্র ভাষায় বক্তব্য দেন। আবদোল্লাহি দাবি করেন, ইরানকে দুর্বল মনে করে অতীতে যে সংঘাত শুরু করা হয়েছিল, তাতে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নিলে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তার দাবি, সেক্ষেত্রে মার্কিন স্বার্থও ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আলাদা বার্তায় আবদোল্লাহি বলেন, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়; বরং তার দৃষ্টিতে এসব ঘাঁটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। “ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তার আগুন সবাইকে গ্রাস করবে”— বলে তিনি আবারও সতর্ক করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে ‘ভিত্তিহীন’ মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সংস্থাটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই ইরানি সামরিক কর্মকর্তা।
সবশেষে আবদোল্লাহি দাবি করেন, ইরান আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী এবং যেকোনো ধরনের বা যেকোনো পর্যায়ের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে তার এসব বক্তব্যের বড় অংশই ইরানের সরকারি অবস্থান ও সামরিক নেতৃত্বের দাবি হিসেবে এসেছে। মেহের নিউজ

