অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ২২০ জনের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে আল-কুদসের ইসলামিক ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা’র বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে পার্সটুডে।
ইসলামিক ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষের দাবি, তথাকথিত ‘ইহুদি ধর্মীয় উৎসব’ উপলক্ষে বুধবার ২২০ জনের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে সহযোগিতা করেছে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরাপত্তায় বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে ‘তালমুদিক’ ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা পালন করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আল-আকসায় প্রবেশকারীদের মধ্যে ইসরায়েলি সংসদ (নেসেট) সদস্য মোশে ফেইগলিনও ছিলেন বলে জানিয়েছে ইসলামিক ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষ।
অধিকৃত আল-কুদস গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করেছে।
অন্যদিকে, বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৮০০ আল-কুদসবাসীকে আল-আকসা মসজিদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চলতি সেপ্টেম্বরেও আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বারবার প্রবেশ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শেখ আলী আল-ইউসুফ।
তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত ও সংগঠিত অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, আল-আকসা মসজিদের ইসলামী পরিচয় পরিবর্তনের লক্ষ্যে এটি দখলদারদের একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনার অংশ।
শেখ আলী আল-ইউসুফ আরও বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের আল-আকসায় প্রবেশ পবিত্র মসজিদ ও পুরো আল-কুদস শহরের ‘ইহুদিকরণ’-এর দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার নতুন একটি ধাপ। পার্সটুডে

